শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকা
আচমকাই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার স্কেলে সেই কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.৪। আজ সকালের সেই তীব্র কম্পনে জেরে তাইওয়ানে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৯ জনের। আহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। রাতের দিকে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়, ভূমিকম্পের পর থেকে ৫০ জন যাত্রী সমেত খোঁজ নেই একটা আস্ত মিনিবাসের। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের তরফে জানানে হয়েছে, আজকের কম্পনের উৎসস্থল ছিল হুয়ালিয়েন শহরের ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৪.৮ কিলোমিটার গভীরে। আজকের কম্পনে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাহাড়ে ঘেরা এই শহরটিই। ভূমিকম্পের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাইওয়ানে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। একই সতর্বার্তা জারি করা হয় জাপান আর ফিলিপিন্সে। তবে স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরে এই তিন দেশের উপর থেকেই সুনামি সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
কম্পন-প্রবণ দেশ বলেই এখানকার বহুতল এবং বিভিন্ন ভবনগুলি তৈরি করা হয় যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে, বিশেষজ্ঞদের নিয়ম-রীতি মেনে। সেই সঙ্গে চলে জনসচেতনতা প্রচারও। আর সে জন্যই আজ বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আজকের কম্পনের ফলে গোটা দেশের বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ধসে পড়েছে বিভিন্ন রেললাইন। ফলে কোথায় কত মানুষ আটকে পড়েছেন তার ঠিকঠাক হিসেব রাত পর্যন্ত করে উঠতে পারেনি সরকার।
দেশের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা ভাবী প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েই হুয়ালিয়েন শহর পরিদর্শনে যান। সাংবাদিকদের তিনি পরে বলেছেন, ‘‘কোথায় কত মানুষ আটকে রয়েছেন তার হিসেবটা আগে করা প্রয়োজন। কারণ যত দ্রুত সেটা সেটা জানা যাবে, তত তাড়াতাড়ি আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’’ টিভি চ্যানেল আর সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হুয়ালিয়েনের একটি হেলে পড়া বহুতলের ছবি আর ভিডিয়ো সকাল থেকেই ভাইরাল।