হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলি চিনে নিন
ফের পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে গিয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে থাকলেও আর্দ্রতা অতিরিক্ত। যার ফল, রাস্তায় বেরিয়ে অনেকেই হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে। দিল্লি-সহ উত্তর ভারতে বিভিন্ন হাসপাতালে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে হিট স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সকলের জেনে নেওয়া দরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেলে, তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট অতিক্রম করলে হিটস্ট্রোক হয়। এই সময়ে অতিরিক্ত ঘাম হয়। এই অবস্থা হার্ট ও মস্তিষ্কের কাজকর্মের উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে ব্রেন স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়। এর থেকে মৃত্যু হতে পারে।
হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলি চিনে নিন
শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার বেশি উঠে যাবে। তার সঙ্গে অত্যধিক ঘাম, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস পড়া, মাথাব্যথা। এর সঙ্গে বমি, পায়খানা হতে পারে। অনেকে জ্ঞানও হারান।
তাপপ্রবাহের প্রাথমিক চিকিৎসা কি?
দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. যুগল কিশোর জানান, হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা সময়মতো দেওয়া গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ কমে যায়।
প্রাথমিক চিকিৎসা কীভাবে করবেন জেনে নিন
কোনও ব্যক্তির যদি হঠাৎ বমি হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয় বা হিট স্ট্রোকের অন্য কোনও লক্ষণ দেখা যায় তাহলে প্রথমেই ওই ব্যক্তিকে চেয়ারে বসিয়ে মাথায় ঠান্ডা জল ঢালুন। কাছাকাছি পাখা না থাকলে কাগজ বা কিছু দিয়ে হাওয়া করুন। এই সময়ে ব্যক্তিকে রোদ থেকে একেবারে সরিয়ে নিয়ে যান।
ওই ব্যক্তির ঘাড়, বগল এবং কোমরে একটি বরফের প্যাক বা ঠান্ডা এবং ভেজা তোয়ালে বা কাপড় রাখুন।
ব্যক্তির জ্ঞান ফিরলে তাঁকে জল খাওয়ান। নারকেল জল, ওআরএস বা গ্লুকোজ হলে ভাল হয়। বাটার মিল্কও দিতে পারেন।
যদি ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যায় তবে একবার বা দুবার ডাকুন। তার নাড়িও পরীক্ষা করুন। যদি সাড়া দেয় তাহলে বুঝবেন, ওই ব্যক্তি বিপন্মুক্ত। আর কোনও সাড়া না পেলে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যান।