গঙ্গায় সমস্ত পদক বিসর্জন দিতে চলেছেন কুস্তিগিরেরা
গঙ্গায় সমস্ত পদক বিসর্জন দিতে চলেছেন কুস্তিগিরেরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় হরিদ্বারে পদক বিসর্জন দেবেন তাঁরা। এমনটাই জানালেন সাক্ষী মালিক, বিনেশ ফোগট, বজরং পুনিয়ার মতো কুস্তিগির। দীর্ঘ দিন ধরে ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন তাঁরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা না হওয়ার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত কুস্তিগিরদের। আমরণ অনশনেও বসবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার টুইট করে অলিম্পিক্স পদকজয়ী সাক্ষীরা লেখেন, “এই পদকগুলো আমাদের প্রাণ। আজ এগুলো গঙ্গায় ফেলে দেওয়ার পর আমাদের বেঁচে থাকার আর কোনও মানে নেই। তাই পদক ফেলে দেওয়ার পর ইন্ডিয়া গেটের সামনে আমরা আমরণ অনশনে বসব।” এই পোস্টের আগে সাক্ষী কটাক্ষের সুরে একটি টুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং চেন্নাই সুপার কিংসকে শুভেচ্ছা। দেখে ভাল লাগছে যে কোনও ক্রীড়াবিদ অন্তত সম্মান পাচ্ছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
রবিবার দিল্লিতে বিনেশ ফোগট, বজরং পুনিয়া, সঙ্গিতা ফোগট, সাক্ষী মালিক এবং আরও অনেক কুস্তিগিরকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। মিছিল করে নতুন সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন তাঁরা ‘মহিলাদের মহাপঞ্চায়েত’ করার জন্য। সেই কারণে আটক করা হয় তাঁদের। কুস্তিগিরদের কর্মসূচির অনুমোদন আগেই খারিজ করেছিল পুলিশ। তার পরেও কুস্তিগিরেরা নতুন সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে গোল বাধে। দিল্লির বিশেষ পুলিশ কমিশনার (আইনশৃঙ্খলা) দীপেন্দ্র পাঠক রবিবার বলেছিলেন, ‘‘আমরা ক্রীড়াবিদদের সম্মান করি। কিন্তু নতুন সংসদ ভবন উদ্বোধনে কোনও বিশৃঙ্খলা হতে দিতে পারি না।’’
অনেক দিন ধরেই ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিলেন কুস্তিগিরেরা। সেই নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। উল্টে রবিবারের ঘটনার পর কুস্তিগিরদের বিরুদ্ধেই এফআইআর করা হয়। সাক্ষী বলেছিলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। আমরা কোনও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করিনি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে পুলিশ। ২০ জন পুলিশ আধিকারিক এক জন মহিলা কুস্তিগিরকে আটকাচ্ছিলেন। আমরা পিছিয়ে আসব না। পরবর্তী পদক্ষেপের উপর নজর রাখুন।”