You will be redirected to an external website

চণ্ডীপাঠেই বিপত্তি, নদিয়ার ‘লালদুর্গা’কে ঘিরে আজও ভেসে বেড়ায় রক্ত হিম করা কাহিনি

চণ্ডীপাঠেই-বিপত্তি,-নদিয়ার-‘লালদুর্গা’কে-ঘিরে-আজও-ভেসে-বেড়ায়-রক্ত-হিম-করা-কাহিনি

মা দুর্গার গায়ের রং নিয়ে নানান রহস্য

মা দুর্গার গায়ের রং নিয়ে নানান রহস্য লুকিয়ে আছে আমাদের সনাতন ধর্মে। বনেদি বাড়ির পুজোগুলো খেয়াল করলেও দেখা যাবে এক এক বাড়িতে এক একরকম রূপে পুজো হয় দুর্গতিনাশিনীর। প্রথা মেনে কোথাও দেবীর গায়ের রং সাদা, কোথাও হলুদ, কখনও নীলাভ আবার কখনও সোনার মতো উজ্জ্বল। নবদ্বীপের এক বিখ্যাত ব্রাহ্মণ পরিবারে দেবী আজও পূজিতা হন রক্তবর্ণা রূপে (Lal Durga)। ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই বংশের ভারি করুণ এক ইতিহাস।

নদিয়ার পুরোনো বনেদি বাড়িগুলোর অন্যতম যোগনাথতলার ভট্টাচার্য বাড়ি। সাড়ে তিনশো বছরের পুরোনো এ বাড়ির দুর্গাপুজো। অবিভক্ত বাংলাদেশের মিতরা গ্রামে শুরু হওয়া এই পুজো দেশভাগের আগেই চলে আসে নবদ্বীপে। তারপর ১২০ বছরেরও ববেশি সময় ধরে নবদ্বীপের যোগনাথতলায় এই পুজো হয়ে আসছে। প্রতিমার রং টকটকে লাল হওয়ায় এই বাড়ির দুর্গা ‘লালদুর্গা’ নামে পরিচিত। একচালা সাবেকি প্রতিমার রাজরাজেশ্বরী রূপ এখানে, বাহন সিংহও নরসিংহ রূপী। প্রতিমার আরেকটি লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য কার্তিক ও গণেশের বিপরীত অবস্থান। অর্থাৎ গণেশ দেবী দুর্গার ডানদিকে না থেকে বাম দিকে অবস্থান করেন। আর কার্তিক বামদিকের পরিবর্তে ডানদিকে অবস্থান করেন। প্রতিমার গাত্রবর্ণের এই লাল রং আর কার্তিক গণেশের উলটো অবস্থানের পিছনে লুকিয়ে আছে এক এই বংশেরই এক আশ্চর্য কাহিনি। (Lal Durga)

জনশ্রুতি অনুযায়ী, এই পরিবারের দেবীর গায়ের রং প্রথম থেকে এমন রক্তবর্ণ ছিল না। এক পারিবারিক দুর্ঘটনার পর থেকেই দেবীর গায়ের স্বাভাবিক হলুদ রং বদলে দিয়ে রক্তবর্ণ হয়ে যায়। সপ্তদশ শতকের কোনও এক শরৎকাল সেটা।ভট্টাচার্য পরিবারের তৎকালীন গৃহকর্তা রাঘবরাম ভট্টাচার্য। সেবার নবমীর দিন চণ্ডীপাঠে বসেছিলেন রাঘবরাম স্বয়ং। পুজোর বিশেষ তিথি পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে একটু দ্রুতই পাঠ করছিলেন তিনি। পাশেই ছিলেন রাঘবরামের তৃতীয় পুত্র রামভদ্র। তাঁর কানে বাবার চণ্ডীপাঠ কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে হয়। ছেলের মুখে নিজের দোষের কথা শুনে রেগে যান রাঘবরাম, চণ্ডীপাঠ থামিয়ে দিয়ে তিনি ছেলেকেই আদেশ করেন চণ্ডীপাঠ করতে। বাবার আদেশে পূর্বদিকে মুখ করে চণ্ডীপাঠ করতে বসলেন রামভদ্র। শুরু হল বাবা আর ছেলের একইসঙ্গে চণ্ডীপাঠ। আর তখনই ঘটে গেল এক আশ্চর্য ঘটনা!

চণ্ডীপাঠ চলাকালীন হঠাৎই দিক পরিবর্তন করে দেবী প্রতিমা। দক্ষিণমুখী থেকে ঘুরে পশ্চিমমুখী হয়ে একেবারে রাঘবপুত্রের দিকেই যেন ঘুরে দাঁড়ান দেবী। দেবীর গায়ের রংও বদলাতে থাকে ধীরে ধীরে। ক্রমশ লাল বর্ণ ধারণ করতে থাকেন মৃন্ময়ো প্রতিমা (Lal Durga)। আর রামভদ্রের সারা শরীর ক্রমেই রক্তশূন্য হয়ে ফ্যাকাসে হতে থাকে। এইভাবে চণ্ডীপাঠও শেষ হয়, আর রামভদ্রও মারা যান দেবীর পায়ের কাছে। দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের সময় দেবীর সঙ্গে রামভদ্রও নদীর জলে বিলীন হয়ে যান। সেই থেকে আজও এই বাড়িতেও পুজোয় চণ্ডীপাঠ নিষিদ্ধ। পুজো হয় বৈষ্ণবমতে। আজও নিয়ম ভেঙে পশ্চিমমুখী হয়েই পুজো নেন ভটচাজ বাড়ির টকটকে লাল বর্ণের মা দুর্গা।

AUTHOR :RIMA

গাড়ি-থেকে-নামলেন,-হেঁটে-গেলেন,-রাস্তা-আটকে-রাখা-বিশাল-সাপ-খালি-হাতে-সরিয়েও-দিলেন! Read Previous

গাড়ি থেকে নামলেন, হেঁটে ...

সাপের-মুখে-চুমু-খেতে-গিয়ে-ছোবল-খেলেন-যুবক!-ভয়ঙ্কর-কাণ্ডের-ভিডিয়ো-প্রকাশ্যে Read Next

সাপের মুখে চুমু খেতে গিয়...