‘বন্দে মাতরম’ পুরস্কার পাচ্ছেন রানি মুখোপাধ্যায়
অভিনয়জীবনের ৩০ বছর পূর্ণ করে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি পেতে চলেছেন অভিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায় (Rani Mukherjee)। চলচ্চিত্র জগতে দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘বন্দে মাতরম’ পুরস্কারে সম্মানিত করা হচ্ছে। এই পুরস্কার রাজ্যের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানগুলির মধ্যে অন্যতম। ২০১৫-এ ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন রানি। তারপরই নিজের রাজ্য থেকে এল এই বিশেষ সম্মান। কলকাতায় জন্ম তাঁর। যদিও কাজের সূত্রে বহু বছর ধরে মুম্বই হয়ে উঠেছে স্থায়ী ঠিকানা। তবু বাংলার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আজও অটুট। তাই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের কাছ থেকে এই পুরস্কার পাওয়া তাঁর কাছে শিকড়ে ফেরার মতোই অনুভূতি।
বুধবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ গভর্নস অ্যাওয়ার্ড 'বন্দে মাতরম' পুরস্কারের ঘোষণা হতেই আবেঘঘন অভিনেত্রীর অনুরাগীরা। তিনি বলেন, 'এটি আমার স্বদেশে ফেরার মতো। যদিও একজন অভিনেতা হিসেবে আমার যাত্রা মূলত হিন্দি ছবির হাত ধরে শুরু। তবে আমার শিকড় গভীরভাবে বাংলার মাটিতেই ছিল।' রানি জানান, তাঁর বাবা-মা ও বাঙালি পরিচয়েই তাঁকে বড় করেছেন, শিখিয়েছেন যে ক্ষমতা দেখাতে উচ্চস্বরে কথা বলার প্রয়োজন নেই। সম্মান, আত্মসম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকার শিক্ষাই তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের মধ্যে রানি মুখোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন। কেরিয়ারের শুরুর দিকে বাণিজ্যিক ছবিতে সাফল্য পেলেও, ২০০৫ সালে সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘ব্ল্যাক’ ছবির মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে পর্দায় প্রতিষ্ঠিত করেন। তারপর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন। ‘বাবুল’, ‘নো ওয়ান কিল্ড জেসিকা’, ‘তালাশ’, ‘মর্দানি’ সিরিজ কিংবা ‘হিচকি’—প্রতিটি ছবিতেই তিনি আলাদা আলাদা রূপে ধরা দিয়েছেন। কখনও সংগ্রামী মা, কখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুলিশ অফিসার, আবার কখনও সমাজের প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক শিক্ষিকা—সব চরিত্রেই সাবলীলভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীকেন্দ্রিক ছবির পরিসর যখন বদলাতে শুরু করে, তখনও রানি নিজের জায়গা ধরে রাখেন শক্ত হাতে। বয়স বা বাজারের প্রচলিত ধারণাকে তোয়াক্কা না করে গল্পনির্ভর ছবিতে অভিনয় করেই তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, ভালো অভিনয়ের কোনও সময়সীমা নেই কোনও বয়সসীমা নেই।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বহু পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেলেও, দর্শকের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। তিন দশকের কাছাকাছি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থেকে রানি মুখোপাধ্যায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন পরিণত, সংবেদনশীল ও সাহসী অভিনেত্রী হিসেবে—যাঁর কেরিয়ার নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছেও অনুপ্রেরণা। দেখতে দেখতে ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর অভিনয়ের বয়স ৩০ বছর। সেই দীর্ঘ যাত্রাপথে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই বিশেষ সম্মান রানি মুখোপাধ্যায়ের কেরিয়ারে যোগ করল আরও এক গর্বের মুহূর্ত। তাঁর এই সাফল্যে আবেগে ভাসছেন অনুরাগীরাও।