ফোর্ট উইলিয়মের কমান্ড্যান্ট বিজেপির হয়ে কাজ করছেন
"আমার কাছে খবর আছে ফোর্ট উইলিয়ামে (Fort William) বসে একজন কমান্ড্যান্ট এসআইআর-এর (SIR West Bengal) কাজ করছেন। বিজেপির (BJP) কাজ করছেন।" সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে একপ্রকার সাবধান করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্ত নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা থেকে শুরু করে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ— একাধিক বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
ফোর্ট উইলিয়মের কমান্ড্যান্ট বিজেপির হয়ে কাজ করছেন
মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “কয়লা থেকে হাওয়ালা— সীমান্ত কার হাতে? কাস্টমস কার হাতে? সিআইএসএফ কার হাতে? বাইরে থেকে কে প্লেনে আসছে, সবই তো কেন্দ্র দেখে। আর্মিও তোমাদের হাতে।” তাঁর অভিযোগ, সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় সংস্থার একাংশকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ফোর্ট উইলিয়মের এক কমান্ড্যান্ট নাকি SIR ও বিজেপির হয়ে কাজ করছেন। “প্লিজ এটা করবেন না,” সরাসরি সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ওখানে মারবেন, আর এখানে বাঙালির নাম বাদ দেবেন?
একই সঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা সত্যিকারের চোর-ডাকাত, তাঁদের ধরুন।” মধ্যপ্রদেশের এক নেতার বাংলায় উপস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, বাংলায় শান্তিতে থাকতে পারেন, এখানকার মিষ্টিও খাওয়ানো হবে, কিন্তু বাংলার মানুষকে যেন হেনস্থা না করা হয়। ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তোলেন— “ওখানে মারবেন, আর এখানে এসে বাঙালির নাম বাদ দেবেন?”
আমার রাজ্যে শান্তি রক্ষা করতেই হবে
নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিএলএ-১ ও বিএলএ-২-কে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, “বস্তা করে কেউ অস্ত্র বা বোমা আনছে কি না, সেটা দেখা আমার দায়িত্ব। আমার রাজ্যে শান্তি রক্ষা করতেই হবে।”
বিহারে তো এমনটা হয়নি
একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে মমতার অভিযোগ, বাংলার বিষয়ে একের পর এক সরকারি সার্টিফিকেট বাতিল করা হচ্ছে— “কার নির্দেশে?” প্রশ্ন তুলে বলেন, বিহারে তো এমনটা হয়নি। মহাভারতের উপমা টেনে তাঁর মন্তব্য, “দুর্যোধন-দুঃশাসনের পথে বাংলা জয় হবে না। ক্ষমতা থাকলে লড়াই করো।”
বাল্কে নথি পাওয়া গেলে এফআইআর
বেআইনি নথি প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে যেখানে অনুমোদিত নয়, এমন কাগজ বা বাল্কে নথি পাওয়া যাবে, সেখানে এফআইআর করতে হবে। সাধারণ মানুষ ও মিডিয়াকেও তথ্য পেলে পুলিশে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে দিল্লির মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কোর্টে কেসই হয়নি, অথচ মিডিয়া ট্রায়াল চলছে।”