বিজেপিকে 'আনম্যাপ' করার ডাক অভিষেকের
চলতি বছরই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (Election)। উত্তরবঙ্গে এবার ভাল ফলের জন্য আরও জোর দিচ্ছে তৃণমূল (TMC)। শনিবার আলিপুরদুয়ারে গিয়ে আসন্ন ভোটে বিজেপিকে আনম্যাপ করে দেওয়ার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee Alipurduar)। পাশাপাশি এও জানিয়ে দিলেন, এক দেশ এক ভোট-এর যে 'চক্রান্ত' করা হচ্ছে তা তিনি হতে দেবেন না মানে দেবেনই না।
চা-বাগান শ্রমিকদের নিয়ে জনসভায় অভিষেক বললেন, আসন্ন নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। অভিষেকের কথায়, এ বার পাঁচে পাঁচ আসন জয়ের লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পুরোপুরি ‘আনম্যাপ’ করে দিতে হবে। তাঁর দাবি, এ বার আলিপুরদুয়ারের পক্ষ থেকে প্রতিদান দেওয়ার সময় এসেছে।
অভিষেকের কথায়। বিজেপি এখন এসআইআর করে আপনার ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। "কাল মানুষ যাতে বাড়ি থেকে বেরোতে না পারেন, তারও ব্যবস্থা করবে। এদের ছেড়ে দিলে চলবে না। বিজেপি এখন এক দেশ এক ভোটের দিকে এগোচ্ছে। তখন ভোটারদের আর কিছু বলার থাকবে না।" অভিষেক জানান, তিনি কোনও ভাবে এক দেশ এক ভোট করতে দেবেন না।
বস্তুত, বিরোধীদের আপত্তির মাঝেই '২৪ সালের ডিসেম্বরে লোকসভায় ‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত বিল পেশ করেছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল এ সংক্রান্ত ১২৯তম সংবিধান সংশোধনী বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল সংসদের নিম্নকক্ষে পেশ করেন। এর পরে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল জোড়া বিল নিয়ে ডিভিশনের দাবি তোলে। এ ক্ষেত্রে সংসদীয় বিধি মেনে কোনও বিল নিয়ে বিতর্কের আগে ভোটাভুটি করতে হয়।
সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য লোকসভা এবং রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ, লোকসভায় ৩০৭ এবং রাজ্যসভায় ১৫৮, যা এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে চলছে কেন্দ্র।
অভিষেক বলেন, এই বিজেপিকে আটকাতে আলিপুরদুয়ারের সাড়ে চারশোটি বুথের প্রতিটিতেই তৃণমূলকে জয়ী করতেই হবে। তবেই বিজেপিকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, বিজেপি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বাংলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প বন্ধ করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
এদিন শুধু বক্তব্য রেখে মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার পথে হাঁটলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে তিনি সরাসরি জনতার কথাই শুনতে চাইলেন। সভাস্থলেই উপস্থিত মানুষদের কাছ থেকে লিখিত আকারে অভিযোগ ও সমস্যার কথা নেওয়া হয়। সেই কাগজ হাতে নিয়ে একে একে পড়ে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি।