অবশেষে স্বীকৃতি !
এত বছরের শিল্পীজীবনেও মেলেনি কোনও সরকারি স্বীকৃতি। মেলেনি কোনও মঞ্চের আলো। তবুও থেমে থাকেননি তিনি। লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছিলেন পাঁচজন মহিলার দল। সময়ের সঙ্গে একে একে সঙ্গীরা হারিয়ে গেছেন। আজ তিনি একা —স্মৃতির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য রাত্রির গান নিয়ে। শিল্পীর খোঁজেই তার বাড়ি পৌঁছে যায় শিলবাড়িহাট ললিত কলা একাডেমি। প্রতিবছর বার্ষিক অনুষ্ঠানের পর তারা খুঁজে বের করেন এমন এক শিল্পীকে, যিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেও শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার কাজ করে চলেছেন।

এ বছর সেই সম্মান তুলে দেওয়া হল রতনবালা বর্মনের হাতে।
উত্তরীয় পরিয়ে, স্মারক দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয় তাঁকে। আবেগে ভিজে ওঠে শিল্পীর চোখ। সম্মানের মুহূর্তে কাঁপা গলায় কয়েক লাইন বিষহরি গান শোনান রতনবালা। বয়স শরীরকে কাবু করেছে , কিন্তু সুরকে পারেনি সম্মান শুধু একটি উত্তরীয় বা স্মারক নয়—এ তো এক জীবনের স্বীকৃতি। রতনবালার মতো শিল্পীরা হয়তো প্রচারের আলো পান না, কিন্তু তাঁদের সুরেই বেঁচে থাকে বাংলার মাটির গন্ধ, মানুষের বিশ্বাস আর লোকঐতিহ্যের গভীর শিকড়।