শিশু মৃত্যু, হাত বদল-উদাসীন হাসপাতাল !
সম্প্রতি শিশু বদলের অভিযোগে উত্তাল হয়ে ওঠে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠে শিশু বিক্রি বা পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ। জানা যায়, তারকেশ্বরের বালিগোড়ির বাসিন্দা জাসমিনা বেগম অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আরামবাগ মেডিকেলে ভর্তি হন। সেখানেই তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে SNCU বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। তিন দিন পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারকে শিশুর মৃত্যুর খবর জানায়। পরে হাসপাতালের তরফে দাবি করা হয়, ভুলবশত ওই শিশুর দেহ আরামবাগের বড়ডোঙ্গলের এক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেই পরিবার শিশুটির দেহ কবরস্থ করে দিয়েছে। এখানেই শুরু হয় জটিলতা।ঘটনার পর জাসমিনা বেগমের পরিবার আরামবাগ থানার দ্বারস্থ হয়। প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে না চাইলেও পরে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে DNA পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর কবর থেকে শিশুর দেহ তোলা হয়।

পরবর্তীতে DNA পরীক্ষার রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়, মৃত শিশুটি জাসমিনা বেগমেরই সন্তান।ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সন্তানহারা মা। আর জি কর আন্দোলনের সময় রাজ্যজুড়ে একাধিক সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল মানুষ। তবুও যে পরিস্থিতির বিশেষ বদল হয়নি, তারই প্রমাণ আরামবাগের এই ঘটনা। কীভাবে কোনও লিখিত তথ্য বা নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়াই এক পরিবারের সদ্যোজাত সন্তান অন্য পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল— সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় মহলে।