স্বপ্ন মরেনি - জিতল প্রশাসন
হুগলির গোঘাট এক নম্বর ব্লকের সাওড়া পেঁকরপাড়া। ভগ্নপ্রায় মাটির দেওয়াল, ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া ছোট্ট ঘর। সেখানেই দিনমজুর শ্রীমন্ত মন্ডলের সংসার—স্ত্রী, ছেলে আর মেয়ে পিয়ালীর বাস ।দিন আনা দিন খাওয়ার জীবনে স্বপ্ন দেখাও যেন বিলাসিতা। সেখানে ছোট্ট পিয়ালী স্বপ্ন দেখতো মাধ্যমিক পরীক্ষাটা অন্তত ভালোভাবে দেবে সে। তাই সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এলেও পড়াশুনো চালিয়ে যেতো । আধো অন্ধকারে পড়তে কষ্ট হলেও কিছুটা জেদের বশেই থেমে থাকেনি। তবে কথায় বলে না বিপদ বলে কয়ে আসে না । হলোও তাই। মায়ের শরীরে টিউমার ধরা পড়তেই সেই স্বপ্নটা যেন ভেঙে যেতে বসে মেয়েটার।

মা যখন আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি, তখন পিয়ালীই ছিল তাঁর একমাত্র ভরসা।হাসপাতালের বিছানার পাশে বসে মায়ের হাত ধরে রাত কাটত। এই বছরই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল পিয়ালীর। কিভাবে তা হবে ভাবতেই বুকের ভিতরটা হাহাকার করে উঠত। আর ঠিক তখনই, অন্ধকারের মুখে আলোর দেখা মেলে। আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুলিশ পৌঁছায় হাসপাতালে। মায়ের পাশে আয়া আর মহিলা কনস্টেবল রেখে, পিয়ালীকে বাড়ি ফিরে পড়াশোনা করার সুযোগ করে দেন তারা।পাঁচ কিলোমিটার দূরের পরীক্ষা কেন্দ্র—বালি হাই স্কুল।সেখানেও পৌঁছনোর ব্যবস্থা করে পুলিশ। সব বাধা পেরিয়ে, চোখে ভয় আর মনে আশা নিয়ে পরীক্ষার হলে বসে পিয়ালী।

মেয়েটা পরীক্ষা দিতে পারবে না—এই ভয়টা শুধু পরিবারের নয়, প্রতিবেশীদেরও কাঁদিয়েছে।
তারাই শেষ ভরসা হয়ে সাহায্যের আর্তি পৌঁছে দেন পুলিশের কাছে। দারিদ্র্যের চাপে যেখানে স্বপ্নগুলো জন্মানোর আগেই মরে যায়, সেখানে পিয়ালীর মাধ্যমিক দেওয়াটাই ছিল একরকম অলৌকিক ঘটনা। আর সেই অলৌকিকতার নাম মানবিকতা, সহানুভূতি। প্রশাসনকে হাজারো দোষে দোষী করলেও - এ এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম।