শিবময় নবাবহাট ধাম
রুদ্রাক্ষের জপমালার আদলে গড়ে ওঠা এই স্থাপত্য কেবল ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, এটি এক ঐতিহাসিক নিদর্শনও। লোকমুখে প্রচলিত, রানী বিষ্ণুকুমারী স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। আবার অন্য এক মত বলছে, মহামারীতে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়া নবাবহাটবাসীকে মানসিক শান্তি ও ঈশ্বরভক্তির পথে ফেরাতেই মহারানীর এই প্রয়াস।

মন্দির প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধভাবে রয়েছে ১০৮টি শিব মন্দির। ডানদিকের সারির শেষে জপমালার ‘মেরু’ চিহ্নের মতো আরও একটি শিব মন্দির—সব মিলিয়ে মোট ১০৯টি মন্দির। প্রতিটি মন্দির একে অপরের গা ঘেঁষে নির্মিত, মাঝখানে নেই কোনো ফাঁক। ওড়িশার বালেশ্বরের আটচালা শৈলীর প্রভাব স্পষ্ট এই স্থাপত্যে।প্রবেশের ডানদিকের প্রথম মন্দিরে রুপোর অলঙ্কারে সজ্জিত গৌরী পট্টের মধ্যে শিবলিঙ্গ, সঙ্গে রুপোর নাগদেবী ও ত্রিশূল। অন্য মন্দিরগুলিতে কষ্টিপাথরের গৌরী পট্টে প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গ।

চত্বরে রয়েছে দুটি পুকুর, ফুলের বাগান, মানত নন্দী পার্ক, ১০৮টি পিতলের ঘণ্টা এবং টেরাকোটার নকশায় ভোলেনাথের পরিবার। শিবরাত্রি ও শ্রাবণ মাসে এখানে ভক্তদের ঢল নামে। ভোর থেকেই মহাদেবের মাথায় জল ঢালতে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। ঐতিহ্য, লোকবিশ্বাস ও ভক্তির এই অনন্য মেলবন্ধনে আজও বর্ধমানের গর্ব—১০৮ শিব মন্দির।