উদয়পুরে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় মৃত ৪ নাবালক
উদয়পুরে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা (Udaipur Car Crash)। দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারাল চারজন - যাদের মধ্যে তিন জনই নাবালক (Minor Death)। আহত হয়েছেন আরও ছ’জন। দুর্ঘটনার আগে মোবাইলে রেকর্ড হওয়া প্রায় ন’মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে (Udaipur Accident Viral Video) আসার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে। সেই ভিডিওতেই ধরা পড়েছে গাড়ির ভয়ঙ্কর গতি, বেপরোয়া ড্রাইভিং এবং শেষ মুহূর্তের আতঙ্ক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছ’জন বন্ধু একটি গাড়িতে করে উদয়পুরে একটি ‘মেহফিল-ই-মিলাদ’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর চা খেতে বেরিয়েছিলেন। গন্তব্য ছিল পুরনো আমেদাবাদ হাইওয়ে (Amedabad Highway)। সেই সময় উল্টো দিক থেকে গুজরাতের দিকে যাওয়া আর একটি গাড়ির সঙ্গে তাদের গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় ওই গাড়ির চার আরোহী - মহম্মদ আয়ান (১৭), আদিল কুরেশি (১৪), শের মহম্মদ (১৯) এবং গুলাম খাজা (১৭) ঘটনাস্থলেই বা পরে হাসপাতালে মারা যান। একই গাড়িতে থাকা বাকি দু’জন গুরুতর জখম হন। অন্য গাড়ির চার আরোহীও আহত হয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি (Viral Video) দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। পিছনের সিটে বসা এক বন্ধু মোবাইলে রেকর্ড করছিলেন সামনের সিটে থাকা চালক শের মহম্মদকে। গাড়ির স্টেরিওতে জোরে বাজছিল হরিয়ানভি গান, স্ক্রিনে চলছিল ভিডিও। এর মাঝেই স্পিডোমিটারের কাঁটা ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায়। একাধিক বন্ধু তখন চালককে ধীরে চালাতে অনুরোধ করে। কেউ বলে, “হাত সরা,” আবার কেউ স্পিডোমিটারের দিকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেখান - যেখানে কাঁটা ১২০ কিলোমিটার ছুঁয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শোনা যায়, গাড়ির গতি নাকি ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
ভিডিওতে দেখা যায়, এত অনুরোধ সত্ত্বেও চালকের মধ্যে গতি কমানোর কোনও তাগিদ ছিল না। সিগারেট টানতে টানতেই তিনি স্টিয়ারিং ধরেছিলেন। ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরই গাড়িটি হঠাৎ বেঁকে যায়। শোনা যায় একটানা চিৎকার, তারপর বিকট শব্দ - কাচ ভাঙার আওয়াজে সব ঢেকে যায়। পর্দা অন্ধকার হয়ে গেলেও মোবাইল রেকর্ডিং চলতে থাকে।
প্রায় ৪০ সেকেন্ড নিস্তব্ধতার পর শোনা যায় যন্ত্রণার আওয়াজ। পরের দু’মিনিটের বেশি সময় ধরে আহতদের আর্তনাদ ধরা পড়ে। এক যুবক কাতর গলায় সাহায্য চান “বাঁচাও… মাকে ডাকো… বাঁচাও।” আর এক জায়গায় তিনি বলেন, “আমি ভেতরে আটকে গেছি, শ্বাস নিতে পারছি না।”
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত সকলেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। বেপরোয়া গতি ও অসতর্ক চালনার ফল যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, উদয়পুরের এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ হয়ে থাকল।