বিনয়ী সবুজের অভিযান
ভোর চারটেয় শুরু হওয়া এক মানুষের নীরব সবুজ লড়াই। প্রায় ১৫ বছরে একক উদ্যোগে ১৩ হাজারেরও বেশি চারাগাছ রোপণ করেছেন তিনি। রাস্তার ধারে, ফাঁকা জমিতে, জলাশয়ের পাড়ে—যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই সবুজের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন বিনয় দাস। প্রতিদিন ভোর চারটেয় উঠে সকাল পাঁচটা থেকে ন’টা পর্যন্ত গাছ লাগানো ও পরিচর্যা—তারপর নিয়মিত অফিস ডিউটি। প্রায় দেড় দশক ধরে একদিনের জন্যও ব্যতিক্রম হয়নি এই ছকবাঁধা রুটিনের। সেই বিনয় দাসের নাম উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন কি বাত অনুষ্ঠানে। আপ্লুত বিনয় বাবু।

আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ায় কর্মরত অবস্থায় মধ্যপ্রদেশে রাস্তার ধারে গাছ লাগানোর উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হন। ২০১০ সাল থেকে কোচবিহারে নিজ উদ্যোগেই শুরু করেন বৃক্ষরোপণ। প্রথমদিকে নিজের বেতনের ১০ শতাংশ ব্যয় করেই কাজ চালিয়েছেন। আজও নিয়ম করে সেই খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন।পরিবেশ সংরক্ষণ সংগঠনের সদস্য পঙ্কজ বুচ্চা জানান, এই স্বীকৃতি হঠাৎ আসেনি—১৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল।স্থানীয়দের কথায়, বিনয় দাসের কাজ আগামী প্রজন্মকে পরিবেশ রক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে।

১৩ হাজার গাছের ছায়া আজ পৌঁছে গেল দেশের প্রায় সর্বোচ্চ দরবারে। নিঃশব্দ কাজই কখনও কখনও সোচ্চারে তার উপস্থিতির জানান দেয়। কুচবিহারের বিনয় বাবু প্রমাণ করলেন বদল আনতে বড় পদ নয়, প্রচুর অর্থ নয় - দরকার সদিচ্ছা ,অদম্য জেদ ও নিরলস পরিশ্রম।