গরম মানেই আমের রাজত্ব শুরু! কোনটা বিখ্যাত, কোথায় গেলে দেশের সবচেয়ে ভাল আম পাবেন? |
মানবিকতার সবুজ ঠিকানা
মানবিকতার সবুজ ঠিকানা
পূর্ণচন্দ্র বর্মন কুচবিহারের টাকোয়ামারি গ্রামের বাসিন্দা। বয়স তাঁর সত্তরের গণ্ডি পেরিয়েছে, তবু মন আজও অটুট, প্রাণবন্ত। সমাজের জন্য কিছু ইতিবাচক কাজ করার ইচ্ছে ছিল অনেকদিনের। সেই ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে তিনি নিজের সাড়ে আট কাঠা জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি শিশুউদ্যান ও একটি মন্দির। এই জায়গাটি শুধু শিশুদের জন্য নয়—বয়স্ক মানুষ, সাধু-গুরু, বৈষ্ণব, সকলের জন্যই এখানে দরজা খোলা। এমনকি এখানে বিনামূল্যে প্রবেশ করা যায়। প্রতিবছর নিজের উপার্জনের একটি বড় অংশ তিনি খরচ করেন এই উদ্যানের পরিচর্যা ও সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে। নিঃশব্দে, বিনিময়হীন ভালোবাসায়, তিনি গড়ে চলেছেন একটি সবুজ, শান্ত আশ্রয়। এক সময় পূর্ণচন্দ্র বাবুর গ্রামের নাম দূরের মানুষের কাছে প্রায় অচেনাই ছিল। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন কিছু নতুন ও ইতিবাচক কাজ করার, যাতে গ্রামের নাম ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। আজ সেই স্বপ্নই বাস্তব।

প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন এই পার্কে। বাচ্চাদের হাসি-খেলা, পরিবারের আনন্দ আর ভক্তদের আন্তরিক প্রার্থনায় পার্কটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও মুখর। রাম মেলার সময় তো যেন উৎসবের রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। পূর্ণচন্দ্র বাবুর নিজের উদ্যোগেই আয়োজন করা হয় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের, যেখানে অংশ নেন কলকাতার টলিপাড়ার পরিচিত তারকারাও। তাঁর ছোট্ট গ্রামের গল্প আজ আর ছোট নেই তা ছড়িয়ে পড়েছে আরও বিস্তৃত পরিসরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী দীপকচন্দ্র বর্মন জানান, পূর্ণচন্দ্র বাবুর এই উদ্যোগে তাঁরা সবাই খুব খুশি। পার্ক তৈরি হওয়ার পর এলাকায় বেড়েছে দোকানপাট। খুলে গেছে নতুন ব্যবসার পথ। এক সময়ের অচেনা টাকোয়ামারি আজ কুচবিহার ছাড়িয়ে অসম পর্যন্ত পরিচিত। একজন মানুষের ইতিবাচক কাজের প্রভাব যে কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে, তারই জীবন্ত উদাহরণ এই টাকোয়ামারি শিশু উদ্যান ও মন্দির প্রাঙ্গণ।
