শীতে ঘন কুয়াশায় নিঃশব্দে বাড়ছে স্বাস্থ্যসংকট!
শীত পড়তেই শহর থেকে জেলা- ভোরবেলা ঘন কুয়াশা যেন নিত্যসঙ্গী (Winter Fog Health Risks)। বাইরে তাকালেই মনে হয় চারিদিক যেন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে, কিছু কিছু সময় যা এক মনোরম দৃশ্যর মতো লাগে। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি (Fog pollution effects)। চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালের কুয়াশা শুধু দৃশ্যমানতার সমস্যা তৈরি করে না, বরং শ্বাসযন্ত্র, হৃদযন্ত্র এবং শিশু–বয়স্কদের স্বাস্থ্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের কুয়াশার সঙ্গে বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা, যানবাহনের ধোঁয়া ও শিল্প কারখানার দূষক একত্রে মিশে ঘনীভূত বায়ু তৈরি করে। এই কণাগুলি ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয় (Respiratory problems in winter)। হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ-এ (COPD) আক্রান্ত রোগীদের সমস্যা এই সময়ে অনেক মাত্রায় বেড়ে যায় (Winter Fog Health Risks)। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যাঁদের আগে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল না, দীর্ঘদিন কুয়াশায় থাকলে তাঁরাও কাশি, গলা খুসখুস ও শ্বাস নিতে অসুবিধার মতো উপসর্গে ভোগেন।
চিকিৎসকদের মতে, কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস হৃদরোগীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ (Winter Fog Health Risks)। ঠান্ডার কারণে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ বাড়তে পারে। তার সঙ্গে দূষিত বায়ু মিশে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শীতকালে হৃদরোগ–সংক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা এই পরিবেশগত পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। শিশুদের ফুসফুস পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় দূষণের প্রভাব তারা দ্রুত অনুভব করে (Winter Fog Health Risks)। অন্যদিকে বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম, ফলে কুয়াশার সময় চোখ জ্বালা, গলা ব্যথা, মাথাব্যথা ও ঘন ঘন সর্দি-কাশির সমস্যা দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
- ঘন কুয়াশায় ভোরে হাঁটা বা শরীরচর্চা এড়িয়ে চলা
- বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার
- যথেষ্ট গরম পোশাক পরা
- ধূমপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা
- ঘরের ভিতর পরিষ্কার বাতাস বজায় রাখা
- দীর্ঘদিন কাশি, শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
চিকিৎসকদের মতে, শীতের কুয়াশা শরীরের জন্য নিঃশব্দে বিপদ ডেকে আনতে পারে। সচেতনতা ও সামান্য সতর্কতাই পারে এই নীরব শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে।