দিদি ইডিকে হারিয়েছেন, পেনড্রাইভের 'পেইন' ভুলতে পারছে না বিজেপি
সোমবার সস্ত্রীক কলকাতায় পৌঁছেছেন সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav)। মঙ্গলবার শহরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সেই উপলক্ষেই এই সফর। যদিও তাঁর আগমন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে - এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে কোনও বৈঠক হয় কি না, তা নিয়েই জল্পনা চলছে।
কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অখিলেশ যাদব চিরাচরিত ভঙ্গিতেই বিজেপি (BJP) ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক টেনে তিনি কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় শাসক দলকে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আইপ্যাক-ইডি অভিযানের (I-PAC ED Raid) পেনড্রাইভ বিতর্ক থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা। অখিলেশের মন্তব্য, বিজেপি এখনও পেনড্রাইভের ‘পেইন’ ভুলতে পারেনি; আর বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডিকে (ED) পরাস্ত করেছেন - এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না গেরুয়া শিবির।
এই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মত স্পষ্ট করে দেন। অখিলেশ যাদবের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরাজয় (West Bengal Elections 2026) এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তাঁর কথায়, বিজেপি নিজেই জানে যে তারা এই রাজ্যে জিততে পারবে না। তাই এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য, সম্মানের সঙ্গে হার স্বীকার করা। অখিলেশের মন্তব্যে স্পষ্ট, বাংলার ভোটের অঙ্কে বিজেপির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কোনও সংশয় দেখছেন না।
এদিন শুধু বাংলার রাজনীতি নয়, নির্বাচন সংক্রান্ত এসআইআর (West Bengal SIR) ইস্যুতেও কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশনকে (ECI) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটছে, তার থেকেও গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। সেখানে আরও বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অখিলেশের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলায় যদি প্রায় এক কোটি নাম বাদ পড়ে থাকে, তবে উত্তরপ্রদেশে সেই সংখ্যা চার কোটির কাছাকাছি।
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপি একদিকে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’-র কথা বললেও, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন নিজেদের অ্যাপ ঠিকমতো বুঝতে পারছে না - এমন অভিযোগ করেন অখিলেশ। তাঁর মতে, কোন সূত্র থেকে এই তথ্য আসছে এবং কারা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।