ধুঁকছে গ্রামীণ গ্রন্থাগার!
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ কর্মীর অভাবে কার্যত বন্ধের মুখে পূর্ব বর্ধমানের পুতুন্ডা এলাকার ৭০ বছরের পুরনো গ্রন্থাগার। সমস্যায় পড়েছেন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে প্রবীণ বইপ্রেমীরা। ১৯৫৩ সালে স্থানীয় কয়েকজন বইপ্রেমীর উদ্যোগে বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকের বড়শুল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুতুন্ডা এলাকায় গড়ে ওঠে “পুতুন্ডা বিদ্যুৎ সংঘ গ্রামীণ গ্রন্থাগার”। প্রথমদিকে মাটির ছোট ঘরে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয় কংক্রিটের তিনতলা ভবন।

প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক, গল্প, উপন্যাস ও নাটকের বইয়ে সমৃদ্ধ এই গ্রন্থাগার একসময় ছিল এলাকার জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিনই ভিড় জমাতেন পড়ুয়া ও বইপ্রেমীরা। বর্তমানে কর্মীর অভাবে প্রতিদিনের বদলে মাসে মাত্র দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার খোলা হচ্ছে এই গ্রন্থাগার। নিয়মিত পরিষেবা না পাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন ছাত্রছাত্রী ও প্রবীণ পাঠকরা। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কর্মী নিয়োগ করে আগের মতো প্রতিদিন গ্রন্থাগার খোলা হোক, যাতে এলাকায় পড়াশোনা ও বই পড়ার পরিবেশ আবার ফিরে আসে। কর্মীর অভাবে অনিয়মিতভাবে গ্রন্থাগার খোলার কথা স্বীকার করেছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। সমস্যা সমাধানে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিলেন তারা। গ্রামীণ শিক্ষার ভিত মজৰুত করতে একটি গ্রন্থাগারের নিয়মিত চালু থাকা অত্যন্ত জরুরি। এখন দেখার, প্রশাসনের আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং কবে আবার প্রাণ ফিরে পায় পুতুন্ডার এই ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগার।
