সাহিত্যে পদ্মশ্রী
পূর্ব বর্ধমানের কালনার মাটিতে গর্বের আবহ। কালনা ২ নম্বর ব্লকের বাদলা পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রবিলাল টুডু সাঁওতালি সাহিত্যে, দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য পেলেন, দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী।
৭৭ বছর বয়সেও তিনি লিখে চলেছেন অবিরাম। উচ্চ মাধ্যমিকের পর থেকেই শুরু হয় তাঁর লেখালেখি। ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর সেই সাহিত্যচর্চা আরও গতি পায়। তাঁর লেখায় উঠে এএসেছে সাঁওতাল সমাজের ইতিহাস, ভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং সংগ্রামের কাহিনী। তিনি প্রবন্ধ, নাটক মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত লিখেছেন বাইশটিরও বেশি বই। তাঁর লেখাগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পারশি খাতির। শুধু তাই নয়, তাঁর লেখা বীর বিরসা স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ইউপিএসসির পাঠ্যক্রমেও অন্তর্ভুক্ত। ২০১৫ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার, এবং ২০২২ সালে বঙ্গভূষণ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি। সমসাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও থেমে নেই তাঁর কলম।

সাঁওতালি ভাষার অস্তিত্ব, সংস্কৃতি আত্মপরিচয় রক্ষায় এখনও লড়ে চলেছেন এই প্রবীণ সাহিত্যিক। সাহিত্যিক রবিলালবাৰুর পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়া নিয়ে তাঁর স্ত্রী বলেন, অনেকটা দেরিতে পুরস্কারটা পেলেন উনি। আরও আগে পেলে ভালো লাগত।স্বীকৃতি দেরিতে এলেও থামেনি লড়াই। কালনার মাটি থেকে আজ জাতীয় মঞ্চে সাঁওতালি ভাষার জয়গান । রবিলালবাৰু দেখিয়ে দিলেন, ভাষাকে ভালবাসলে, সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরলে, সময় যতই লাগুক, সম্মান একদিন দরজায় কড়া নাড়বেই।