ফাঁসির মঞ্চ - ‘আতঙ্কের আঁতুড়ঘর’
বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্রেই এখনও দাঁড়িয়ে আছে ব্রিটিশ আমলের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন—ফাঁসির মঞ্চ। জানা যায়, ১৮৮০-র দশকে বর্তমান আদালত ভবন থেকে কিছুটা দূরে ছিল পুরনো আদালত। সেই সময় বর্ধমান ডিভিশনের আওতায় ছিল বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি জেলা—এমনকি কলকাতার ধর্মতলা এলাকাও। লোকমুখে প্রচলিত, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্তদের ফাঁসি কার্যকর করা হত এই মঞ্চেই। বর্তমানে এই ফাঁসির মঞ্চের পাশেই রয়েছে বর্ধমান বিদ্যুৎ দফতরের সেকশন-১ অফিস। তবে দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক এই ফাঁসির মঞ্চ।

ফাঁসির মঞ্চের চারপাশ ইটের গাঁথুনি দিয়ে ঘেরা। কাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ছাদ চুঁয়ে জল পড়ছে, বিভিন্ন অংশ থেকে খসে পড়ছে চাঙর। উপরের অংশে এখনও রয়েছে পুরনো কপিকল, সেটিও নড়বড়ে অবস্থায় ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা। দেওয়ালের ফাঁক ভেদ করে বেরিয়ে এসেছে গাছপালা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে গোটা কাঠামো। সামনেই ব্যস্ত রাস্তা—প্রতিদিন বহু মানুষের যাতায়াত। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও অবহেলায় ধ্বংসের মুখে ব্রিটিশ আমলের এই ফাঁসির মঞ্চ। দ্রুত সংস্কার ও সুরক্ষার দাবি তুলছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া থেকে যাচ্ছে বড়সড় বিপদের আশঙ্কাও ।