স্মার্টফোনের ধাক্কা!
সমুদ্রের হাওয়া, ঢেউয়ের গর্জন আর নোনা জলের টান—সব মিলিয়ে দিঘা এখনও পর্যটকদের প্রথম পছন্দের তালিকায়। নিউ দিঘা, ওল্ড দিঘা, মোহনা থেকে শঙ্করপুর—সব জায়গাতেই উপচে পড়া ভিড়। কেউ জলে নামছেন, বোটিং করছেন, কেউ বা সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। একটা সময় এই সব মুহূর্ত ধরে রাখতে পর্যটকদের ভরসা ছিল সৈকতের পেশাদার ফটোগ্রাফাররা। তাঁদের ক্যামেরায় তোলা ছবিই ছিল স্মৃতির প্রধান ভরসা। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে অভ্যাস। এখন সেই জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোনের ক্যামেরা। সেলফি আর ইনস্ট্যান্ট ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে ভ্রমণের স্মৃতি।

ফটোগ্রাফারদের দাবি, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের আয় কমছে। আগে যেখানে দিনে প্রায় ৭০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার হতো, এখন সেখানে ৪০০ টাকা রোজগার করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। বহু বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই। তাঁদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। কথায় আছে, প্রযুক্তির যেমন ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনই রয়েছে নেতিবাচক প্রভাবও। স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনই কিছু মানুষের জীবিকায় টান ফেলেছে। দিঘার সৈকত ফটোগ্রাফারদের বর্তমান অবস্থা তারই উদাহরণ। কীভাবে হবে উপার্জন, কীভাবে চলবে সংসার— ভবিষ্যতের এই ভাবনাই চিন্তায় রাখছে সৈকত ফটোগ্রাফারদের।