স্টেডিয়ামে নির্মাণ আদালত ভবন!
প্রায় ৫৩ বছর ধরে অরবিন্দ স্টেডিয়ামে ভলিবল ও বাস্কেটবল খেলা হয়। স্থানীয় লিগ,নকআউট ছাড়াও রাজ্যস্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন হয় এই স্টেডিয়ামে। স্টেডিয়ামে সর্বভারতীয় ভলিবল ও বাস্কেটবলের আসরও বসেছে। স্টেডিয়ামের ভলিবল ও বাস্কেটবল কোর্টে নিয়মিত অনুশীলন হয়। বহু খেলোয়াড় এখানে অনুশীলন করে দেশ ও রাজ্যদলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আর এই মাঠে হঠাৎ করে আদালতের দ্বিতীয় ভবন নির্মাণের খবর পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন অরবিন্দ স্টেডিয়ামের সদস্যসহ ক্রীড়া প্রেমীরা।

আদালতের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন আদালত ভবন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। জমির খোঁজ শুরু হলে জানা যায় অরবিন্দ স্টেডিয়ামের জমি জেলা জজের সম্পত্তি। এরপরই জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জেলা জজ। ছিলেন বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরাও । সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে স্টেডিয়াম এলাকাতেই নতুন ভবন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য হাইকোের্টর জোনাল জজের কাছে আবেদন জানান পূর্ব বর্ধমানের জেলা জজ সুজয় সেনগুপ্ত। এ ব্যাপারে কটি প্রস্তাব জোনাল জজের কাছে পাঠান জেলা জজ। সেই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছেন জোনাল জজ। অরবিন্দ স্টেডিয়াম চত্বরে আদালত ভবন তৈরি নিয়ে প্রশ্নের মুখে জেলায় ভলিবল-বাস্কেটবল খেলার ভবিষ্যত। ক্ষুদেদের কাছে শ্বাস নেয়ার জায়গা এই স্টেডিয়াম। এখান থেকে ছেলেমেয়েদের খেলা শিখিয়ে তারা কর্মক্ষেত্র প্রবেশ করে। সরকারের তো অনেক জায়গা আছে সেই সমস্ত জায়গা ছেড়ে কেন এই জায়গাকে টার্গেট করা হলো। স্টেডিয়ামে সদস্যদের মধ্যে এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে। আর কি তবে ধরা পড়বে না খুদেদের হুটোপাটি। হবে না ক্রীড়া প্রেমীদের অতি প্রিয় স্থানীয় লিগ অথবা বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট? বর্ধমানের অরবিন্দ স্টেডিয়াম কি তবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই পেতে চলেছে? অনিশ্চয়তায় জেলা ক্রীড়া মহল।