শিক্ষক নেই তবুও শিক্ষা থামেনা
একটা অসম লড়াই চলছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম বসন্তপুরে।
যেখানে শিক্ষক নেই, সরকারি নিয়োগ নেই— তবু থেমে যায়নি পড়াশোনা।শ্রেণিকক্ষে ঢুকলে দেখা যায়, ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা চলছে।বেঞ্চে বসে আছে ছাত্রছাত্রীরা। তপশিলি অধ্যুষিত এই গ্রামে প্রাথমিকের পর পড়াশোনা মানেই ছিল পাঁচ কিলোমিটার দূরের স্কুল।সে কারণেই লড়াই শুরু করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঘোষ।২০১০ সাল থেকে সরকারি দপ্তরের দরজায় দরজায় ঘুরে,শেষ পর্যন্ত গড়ে উঠেছিল বসন্তপুর জুনিয়র হাই স্কুল।ঘর হয়েছে, মিড-ডে মিল হয়েছে, ছাত্রসংখ্যা বেড়েছে। অথচ শিক্ষক আসেননি। ২০১৮ সালে তিনজন স্থায়ী শিক্ষকের অনুমোদন মিললেও আজও স্কুলে রয়েছেন মাত্র একজন। একজন শিক্ষক দিয়ে কি চলে একটি স্কুল?সেই শূন্যস্থানেই নিজের বেকারত্বকে ঢেকে রেখে, দাঁড়িয়ে পড়েছেন গ্রামের পাঁচ যুবক-যুবতী। বেতন নয়, সম্মান নয়, কোনও চুক্তিও নয়।শুধু একটাই দায় - এই স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে, অনেক স্বপ্নই পথভ্রষ্ট হবে।

সব আলো যে সরকারি সহযোগিতায় জ্বলে না,কিছু আলো জ্বলে মানুষের ঐকান্তিক ইচ্ছা শক্তিতে ভর করে - এ যেন তারই প্রমাণ। বসন্তপুর জুনিয়র হাই স্কুল আজও বেঁচে আছে কোনও আদেশে নয়,কোনও নিয়োগে নয়।বেঁচে আছে পাঁচজন যুবক-যুবতী আর এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের নিঃশব্দ সামাজিক দায়বদ্ধতায়। হয়তো এই লড়াইয়ের নাম নেই,কিন্তু ফল আছে। প্রতিদিন নতুন করে স্কুলে আসা কয়েকটা স্বপ্ন।এটাই বসন্তপুরের গল্প।যেখানে স্কুল চলছে,কারণ এখনও কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন—শিক্ষা আনে চেতনা, আর চেতনায় মুক্তি ।