‘আমার জীবনের প্রথম দেখা ছবি গুরুদক্ষিণা’, বললেন অভিষেক, জড়িয়ে ধরলেন রঞ্জিত মল্লিক |
প্রতীকের বাড়ি থেকে ইডি কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি, যা নিয়েছেন তা মমতাই: হাইকোর্টে ইডি
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
আইপ্যাক (IPAC ED Raid) কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) ইডি-র বিরুদ্ধে দায়ের করা তৃণমূলের মামলা (TMC Case) টিকল না। তা খারিজ হয়ে গেল। তার কারণ, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি-র (ED) তরফে আইনজীবী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু (SV Raju) অন রেকর্ড জানিয়ে দিলেন, “প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট বা সল্টলেকের অফিস থেকে তদন্ত এজেন্সি (ED Raid at IPAC) কিছু বাজেয়াপ্ত করেনি। যা কাগজপত্র সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।''
ইডির (ED) তরফে এই সাফ কথা শোনার পর আশ্বস্ত হন তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী (TMC Lawyer Maneka Guruswami)। সওয়াল জবাবের সময়েই মানেকা বলেছিলেন, ইডি যদি অন রেকর্ড জানায় যে তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, তাহলেই মহামান্য আদালত তথা কলকাতা হাইকোর্ট তাদের পিটিশনকে ডিসপোজ (Dispose of Petition) করে দিতে পারে। যা শুনে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বলেন, আমি তাই তো বলছি, ইডি কোনও নথি বা ডিজিটাল এভিডেন্স বাজেয়াপ্ত করেনি।
এদিনের সওয়াল জবাবে আইনজীবী এসভি রাজু ও মানেকা গুরুস্বামীর তর্ক ছিলেন দেখার মতো। তাঁর দীর্ঘ সওয়ালে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু বলেন, একই ধরনের মামলা ইডি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দায়ের করেছে। সুপ্রিম কোর্ট তা বিবেচনা করছে। তাই প্রথা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের সেই শুনানির জন্য অপেক্ষা করুক কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট যদি মামলাটি কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দেয়, এক মাত্র তবেই হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে। তাই ইডি-র আবেদন সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করক উচ্চ আদালত।
এদিন শুনানির শেষে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ ইডি-র এই আবেদন মেনে নেন এবং হাইকোর্টের শুনানি মুলতবি করে দেন। সেই সঙ্গে বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা চলছে। তাই সেই শুনানিতে কী হয় তার জন্য অপেক্ষা করা হোক।
আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের (IPAC Pratik Jain) বাড়ি ও অফিসে তল্লাশির দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সেখানে পৌঁছে গেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার (DGP Rajeev Kumar) ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা (CP Manoj Verma)। তার পর দেখা যায়, প্রতীকের বাড়ি থেকে একটি সবুজ ফাইল হাতে নিয়ে বেরোচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এর পরই হাইকোর্টে মামলা করেছিল ইডি। তার পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও ওই মামলায় একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়। এদিনের শুনানিতে ইডির আইনজীবীরা বলেন, তৃণমূলের পিটিশন গ্রহণযোগ্যই নয়।
অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের যুক্তি ছিল, ইডি তো কোনও কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করেনি। তা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পার্টি করা হয়নি কেন? তৃণমূল মামলা করেছে কেন? যাঁর বাড়ি বা অফিসে ইডি তল্লাশি করেছে, তিনি কেন কোনও পিটিশন দায়ের করেননি।
কলকাতা হাইকোর্টের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেও মামলা দায়ের করেছে ইডি। রাজ্য সরকার তাতে আবার ক্যাভিয়েট ফাইল করে রেখেছে। তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে মানেকা গুরুস্বামী বলেন, আমার মক্কেল তথা টিএমসি সেই ক্যাভিয়েটের অন্তর্ভূক্ত নয়।
মানেকা বলেন, ওই তল্লাশিতে যে নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তা তৃণমূলের অতি গোপনীয় রাজনৈতিক ডেটা (Political Data)। সেই ডেটা সুরক্ষা চায় তৃণমূল। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক দলের গোপনীয়তা রক্ষার মধ্যেই এই ডেটার গোপনীয়তার বিষয়টি পড়ে। পলিটিকাল ডেটা ফার্মের তথ্যও তার মধ্যে পড়ে। সুতরাং সেই তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে আদালতকে।