এবার এসআইআর ইস্যুতেও ধর্না দেবেন মমতা
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee Dharna) আন্দোলন মানেই রাজপথ দখল। প্রতিটি ধর্নার নেপথ্যে ছিল একেকটি জ্বলন্ত ইস্যু এবং সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণ। আগামী ৬ মার্চ মেট্রো চ্যানেলে তাঁর বসতে চলা ধর্নার প্রেক্ষাপট বুঝতে গেলে পূর্ববর্তী লড়াইগুলোর বিস্তারিত খতিয়ান দেখে নেওয়া জরুরি।
সিঙ্গুর আন্দোলন ২০০৬: অনশনের সেই ২৬ দিন (Singur Protest)
এটি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন এবং দীর্ঘতম লড়াই। টাটাদের ন্যানো (Tata Nano) কারখানার জন্য অনিচ্ছুক চাষিদের জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে ২৫ নভেম্বর ২০০৬ থেকে ধর্মতলার মোড়ে অনশনে বসেন তিনি।
সেই অনশন বাম সরকারের পুলিশি ধরপাকড় এবং কৃষকদের ওপর বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে ছিল। তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি অনড় ছিলেন।
দীর্ঘ ২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেও এই আন্দোলনই বাংলার গ্রামীণ জনভিত্তিকে তৃণমূলের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সিঙ্গুর থেকেই শুরু হয়েছিল বাম শাসনের পতনের সূচনা।
সিবিআই বনাম পুলিশ ২০১৯: ‘সংবিধান বাঁচাও’ ধর্না (CBI vs Police)
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের (Parliament Election 2019) আগে এক নজিরবিহীন ধর্না দেখেছিল কলকাতা। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের (Rajeev Kumar) বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। সারদা কাণ্ডের তদন্তে সিবিআইয়ের এই পদক্ষেপকে ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাত’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন মমতা। তিনি সরাসরি পুলিশ কমিশনারের বাড়ির সামনে থেকে গিয়ে মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেন।
৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এই ধর্নায় প্রায় গোটা বিরোধী শিবির মমতাকে সমর্থন জানিয়েছিল। এটি ছিল কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্য প্রদর্শনের এক বড় মঞ্চ। এখানে বলে রাখা দরকার, এই রাজীব কুমারকেই এবার রাজ্যসভার প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনী নিষেধাজ্ঞা ২০২১: গান্ধী মূর্তির নীচে নিভৃত প্রতিবাদ
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2021) উত্তাল আবহে নির্বাচন কমিশন মমতার প্রচারের ওপর ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্ররোচনামূলক মন্তব্যের অভিযোগে কমিশন তাঁকে প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলে, মমতা দমে না গিয়ে অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নেন। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির নীচে হুইলচেয়ারে বসে একা ধর্না দেন তিনি।
সেই সময় কোনও মাইক বা ভাষণ ছাড়াই কেবল ক্যানভাসে ছবি এঁকে তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে মৌন প্রতিবাদ জানান। এই দৃশ্য বাংলার মানুষের মনে এক গভীর সহানুভূতির উদ্রেক করেছিল, যা নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূলের বিপুল জয়ের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।