‘আমার জীবনের প্রথম দেখা ছবি গুরুদক্ষিণা’, বললেন অভিষেক, জড়িয়ে ধরলেন রঞ্জিত মল্লিক |
৮৫ লক্ষ ছাড়িয়ে কোটির পথে গঙ্গাসাগরের ভিড়, শৃঙ্খলার বার্তা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের
৮৫ লক্ষ ছাড়িয়ে কোটির পথে গঙ্গাসাগরের ভিড়
গঙ্গাসাগরে (Gangasagar 2026) পুণ্যস্নানের জনজোয়ার ক্রমেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত মেলা চত্বরে আসা পুণ্যার্থীর সংখ্যা ৮৫ লক্ষ ছাড়িয়েছে। প্রশাসনের হিসেব বলছে, কোটির গণ্ডি ছোঁয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti) পুণ্যতিথিতে সৈকতজুড়ে শুধুই মানুষের মাথা আর মাথা - দূর থেকে তাকালেও ভিড়ের শেষ দেখা যাচ্ছে না।
এই বিপুল জনসমাগমের মধ্যেই শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। গঙ্গাসাগরে সাংবাদিক বৈঠক (Gangasagar PC) করে তিনি বলেন, সরকার পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার সমস্ত ব্যবস্থা করেছে, কিন্তু এত বড় ভিড় সামলাতে পুণ্যার্থীদের সহযোগিতা জরুরি।
মন্ত্রীর কথায়, “একসঙ্গে কয়েক লক্ষ মানুষ আসছেন। এত মানুষের ভিড়ে আমাদেরও চাপ বাড়ছে। তাই সকলের কাছে অনুরোধ - শৃঙ্খলা বজায় রাখুন, প্রশাসনের কথা শুনুন। অনেকেই স্নানের সময় সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, এতে বিপদ বাড়ছে। এটা করবেন না।” এই সাংবাদিক বৈঠকে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলক রায়, সুজিত বসু, বেচারাম মান্না, বাপী হালদার সহ প্রমুখ।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মন্ত্রী, আমলা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা একসঙ্গে মাঠে নেমে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে কুইক রেসপন্স টিমও।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি তুলে ধরে অরূপ বিশ্বাস জানান, সৈকত এলাকায় ৩ হাজারেরও বেশি সৈকত প্রহরী কর্মী মোতায়েন রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক। মেলায় শুধু দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকেই নয়, বিদেশ থেকেও পুণ্যার্থীরা এসেছেন - ব্রিটেন ও ফ্রান্স থেকেও গঙ্গাস্নানে যোগ দিয়েছেন অনেকে।
মেলায় প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক পরিষেবা দিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। ‘বন্ধন’-এর ১৫টি অতিরিক্ত বুথ চালু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৫ লক্ষ ৭৫ হাজারের বেশি পুণ্যার্থী পুণ্যস্নানের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন।
হারিয়ে যাওয়া মানুষের খোঁজে মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনায় চালু হওয়া ই-পরিচয় কিউআর কোড ব্যবস্থার সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত ৪ হাজার ৮৮৩ জন বিচ্ছিন্ন মানুষকে দ্রুত তাঁদের পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে বিপুল ভিড়ের মাঝেই কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার কথাও স্বীকার করেছেন অরূপ বিশ্বাস। এখনও পর্যন্ত পকেটমারের ২৭২টি অভিযোগ এসেছে। মেলায় একজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে - অসম থেকে আসা ওই ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ তিনজনকে এয়ারলিফট করে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।