ব্রিগেডের মহাসমাবেশ দেখে আপ্লুত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী
রবিবার কলকাতার ব্রিগেডের (Brigade) মাটিতে হয়ে গেল পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ (Gita Path) অনুষ্ঠান। এই মহাসমাবেশের সঙ্গেই বাগেশ্বর ধাম সরকারের আচার্য ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী (Bageshwar Dham Sarkar Acharya Dhirendra Krishna Shastri) তুলনা টানলেন মহাকুম্ভের সঙ্গে (Maha Kumbh)। তাঁর কথায়, “আজ কলকাতার (Kolkata News) পবিত্র ভূমিতে পাঁচ লক্ষ মানুষ একসঙ্গে গীতা পাঠ করলেন। যে উচ্ছ্বাস, যে ভক্তির জোয়ার চোখে পড়ল, তাতে মনে হচ্ছিল যেন কলকাতায় মহাকুম্ভ বসেছে।”
গীতাপাঠে এমন বিপুল জনসমাগম দেখে বাংলার মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানান শাস্ত্রী। বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal News) ও কলকাতার মানুষকে আমাদের অন্তরের ধন্যবাদ। সংনাতন ঐক্যই এই দেশ ও বিশ্বের শান্তির সর্বোচ্চ পথ। ভারতে চাই ‘সনাতনি’, চাই না ‘টানাটানি’। ভারতে চাই ‘ভগবা-এ-হিন্দ’, চাই না ‘গজবা-এ-হিন্দ’।”
এদিনই বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ‘বাবরি মসজিদের শিলান্যাস’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই শাস্ত্রীর মন্তব্য, “যাঁর যা ভক্তি, তিনি নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী গ্রহণ করতে পারেন। এতে কোনও অপরাধ নেই। কিন্তু আমাদের ভগবান রামচন্দ্র সম্পর্কে কেউ মন্তব্য করলে সেটা বরদাস্ত করা হবে না। মন্দির তৈরির সময় যদি কেউ কটাক্ষ করে, তার দাম্ভিকতাই প্রকাশ পাবে।”
কে এই ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী? (Dhirendra Krishna Shastri)
বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী, যিনি বহুজনের কাছে বাগেশ্বর ধাম সরকার বা বাগেশ্বর বাবাই নামে বেশি পরিচিত, এখন দেশের অন্যতম আলোচিত ধর্মগুরু। তাঁর প্রভাব মধ্যপ্রদেশ ছাড়িয়ে বহু রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে রাজনৈতিক মহলেও তাঁর গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েছে।
১৯৯৬ সালের ৪ জুলাই জন্ম নেওয়া ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের শৈশবের নাম ছিল ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ গর্গ। পরে তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধি গ্রহণ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনের অনুযায়ী, তাঁর মা সরোজ গর্গ এবং বাবা রামকৃপাল গর্গ—যিনি পেশায় পুরোহিত ছিলেন। পরিবারে আধ্যাত্মিকতার পরিবেশ ছিল গভীর—দাদু ভগবানদাস গর্গ নিজেও ছিলেন সন্ন্যাসীস্বভাবের এবং নির্মোহী আখড়ার হনুমান মন্দিরের কাছে ভক্তদের নিয়ে নিয়মিত আখড়ায় বসতেন।
ছোটবেলায় দাদুর সঙ্গে সেসব সভামণ্ডপেই যাতায়াত শুরু হয় ধীরেন্দ্রকৃষ্ণের। ধীরে ধীরে তিনিও একই জায়গায় ‘দৈব দরবার’ বসাতে শুরু করেন— যা পরবর্তীতে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাঁর ভক্তদের দাবি, মানুষের সমস্যা তিনি আধ্যাত্মিক উপায়ে সমাধান করেন এবং অনেক সময় কোনও তথ্য না জেনেও মানুষের মনের কথা বলে দেন।
অলৌকিক শক্তির অধিকারী বলেও তাঁকে মানেন অনুসারীরা। অনেকেই বিশ্বাস করেন, কারও জীবনের তথ্য তিনি নাকি চোখের পলকে লিখে ফেলতে পারেন কাগজে। একবার এক ব্যক্তির শরীর থেকে ‘ভূত’ তাড়ানোর ঘটনাতেও বেশ সাড়া পড়েছিল—যা তাঁকে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
রোববার সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় ছিল ব্রিগেডে। সনাতন সংস্কৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাসমারোহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, এমনকি বাংলাদেশ এবং নেপাল থেকেও বহু মানুষ যোগ দেন। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠান চলে দুপুর ২টো পর্যন্ত। উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, তথাগত রায়-সহ বিজেপির হেভিওয়েটরা।
গীতাপাঠের মঞ্চ তিন ভাগে তৈরি হয়েছিল। মূল ‘পার্থসারথি মঞ্চ’, যেখানে বসেন প্রায় দেড়শো সাধু–সন্ত। মূল মঞ্চের বাঁ পাশে ‘চৈতন্য মহাপ্রভু মঞ্চ’ এবং ডানদিকে ‘শঙ্করাচার্য মঞ্চ’। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয় ২৫টি গেট। এনিয়ে কার্তিক মহারাজ জানান, 'আয়োজন একদম পূর্ণাঙ্গ। চতুর্দিক থেকে মানুষ এসেছেন। কোনও অসুবিধা হয়নি, রাজ্য সরকারের সহযোগিতাও পেয়েছি।'