ঈশ্বর সেবা
ব্যস্ত কৃষ্ণনগর স্টেশন।ট্রেন ধরার তাড়া, মানুষের ভিড়, কোলাহল। সেই ভিড়ের মাঝেই রিজার্ভেশন কাউন্টারের সামনের সিঁড়িতে প্রতিদিন দুপুরে নিঃশব্দে বসে থাকেন কয়েকজন অসহায় মানুষ। চোখে-মুখে একটাই অপেক্ষা—কেউ একজন আসবেন। দুপুর গড়াতেই সেই অপেক্ষার অবসান। হাতে খাবারের প্যাকেট নিয়ে হাজির হন ওদের সবার প্রিয় মাইকেল দা। প্রতিদিন নিয়ম করে তিনি এই ভবঘুরে ও অসহায় মানুষগুলোর জন্য পুষ্টিকর খাবার নিয়ে আসেন—নিঃশব্দে, প্রচারের আলো থেকে দূরে। স্টেশনই যাদের ঘর—শীত, গরম, বৃষ্টি সব ঋতুতেই প্ল্যাটফর্মেই কাটে তাদের জীবন। কেউ মানসিক ভারসাম্যহীন, কেউ পরিবারহারা, কেউ আবার বয়স ও অসুখে একেবারে অসহায়। সমাজের চোখ এড়িয়ে যাওয়া এই মানুষগুলোকেই নিজের আপনজন মনে করেন মাইকেল।

তিনি কোনো এনজিও চালান না। নিজের সামর্থ্য মতো প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করেন। শুধু খাবারই নয়—প্রয়োজনে ডাক্তার দেখানো, ওষুধ কেনা, পরিষ্কার জামাকাপড়ের ব্যবস্থাও করে দেন। এই কাজে তার দিদি ও ভাইয়েরা নীরবে পাশে থাকেন। মাইকেলের উদ্যোগ দেখে স্থানীয় অনেক মানুষও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।

আজকের ব্যস্ত সময়ে যখন মানুষ মানুষের দুঃখ এড়িয়ে চলে, তখন কৃষ্ণনগর স্টেশনের এই ছোট্ট উদ্যোগ যেন স্বামী বিবেকানন্দের সেই অমর বাণীকেই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—
“জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।”নিঃস্বার্থভাবে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে মাইকেল যেন বারংবার প্রমাণ করছেন, মানবসেবাই আসলে সবচেয়ে বড় ধর্ম। তার চেয়ে বড় কোন ধর্মই হয় না।