শতবর্ষের ইতিহাস। দীর্ঘ অবহেলা। জীর্ণ হাসপাতাল।
সাঁকরাইলের আন্দুলে অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন মহিয়াড়ী লক্ষ্মীকমল হাসপাতাল। একসময় এই এলাকায় ছিল জমিদার কমলকৃষ্ণ কুণ্ড চৌধুরীর বাগানবাড়ি। এলাকায় চিকিৎসার অভাব দেখে, নিজের বাগান বাড়িতেই গড়ে তোলেন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। নিজের নাম ও স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়ার নাম মিলিয়ে নাম রাখা হয় লক্ষীকমল হাসপাতাল। একসময় নার্স কোয়ার্টারস , প্রসূতি বিভাগ, ২৪ ঘন্টা পরিষেবা সবই ছিল।তারপর ধীরে ধীরে অবক্ষয়।

ছাদ চুঁইয়ে জল। খসে পড়া প্লাস্টার। জঙ্গলে ঢেকে যায় চারপাশ। এখন সপ্তাহে মাত্র তিন দিন বসেন একজন চিকিৎসক, তবুও আশা ছাড়েননি স্থানীয় মানুষ। দীর্ঘদিন ধরেই দাবি ছিল সংস্কারের। উদ্যোগ নেন সাঁকরাইলের বিধায়ক প্রিয়া পাল। বিধানসভায় তোলা হয় বিষয়টি। মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি। অবশেষে মেলে ৭৭ লক্ষ টাকা। শুরু হয় সংস্কারের কাজ। হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে বিধায়ক বলেন, বহুদিনের চেষ্টার ফলেই মিলেছে বরাদ্দ। এখন লক্ষ্য, পুরোনো গৌরব ফেরানো।

বিধায়কের পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ নার্সিংহ বেগম কাজী, মহিয়াড়ী এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মঙ্গলা রায়, উপপ্রধান শুভঙ্কর মজুমদার সহ আরও অনেকে।দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় খুশি এলাকাবাসী। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্মীরাও বলেন, পরিষেবা বাড়লে উপকৃত হবেন এলাকাবাসী। সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। খুশি এলাকাবাসী। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। শতবর্ষ প্রাচীন হাসপাতাল এতদিন অবহেলায় পড়েছিল কেন? দুই দশক ধরে পরিষেবা কমল। পরিকাঠামো ভাঙলো। তখন কোথায় ছিল প্রশাসন? ৭৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে ঠিকই কিন্তু এত দেরির দায় নেবে কে?