জেনে নিন কীভাবে পুজো করলে বিদ্যা-বুদ্ধি দুই-ই মিলবে
বাগদেবীর (Saraswati) আরাধনা মানেই বিদ্যা, বুদ্ধি আর সৃজনশীলতার আহ্বান। সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja) বাঙালি গৃহস্থের ঘরে শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং তা প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও। বই-খাতা, কলম থেকে শুরু করে বাদ্যযন্ত্র, সব কিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে এই পুজো। তবে শুধু ফুল-ফল দিয়ে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করলেই যে পূর্ণ সুফল মিলবে, এমনটা নয়। বাস্তুশাস্ত্র (Vastu Shastra) বলছে, দেবীর বিগ্রহ কোথায় রাখা হচ্ছে, কী ভঙ্গিমায় আরাধনা করা হচ্ছে—তার উপরেও নির্ভর করে ফল।
পুরোহিতদের একাংশ জানাচ্ছে, বাড়ির উত্তর (North) এবং উত্তর-পূর্ব (North-East) দিক সরস্বতী পুজোর জন্য সবচেয়ে শুভ। এই দুই দিককে জ্ঞান ও ইতিবাচক শক্তির আধার বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে যেসব পরিবারে পড়াশোনা করা লোকজন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই কোণে দেবীর মূর্তি বা ছবি স্থাপন করলে বিদ্যাচর্চায় মনোযোগ বাড়ে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে এই নিয়ম মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখা দরকার- দেবী সরস্বতীর মূর্তি বা ছবি কখনই নিচু জায়গায় রাখা উচিত নয়। মাটির খুব কাছাকাছি বা একেবারে মেঝেতে রাখা বিগ্রহ শুভ নয়। বরং মাটি থেকে কিছুটা উঁচু জায়গায় পরিষ্কার পিঁড়ি বা টেবিলের উপর দেবীকে স্থাপন করা ভাল। পাশাপাশি, গৃহস্থ বাড়িতে দাঁড়ানো ভঙ্গিমার সরস্বতী বিগ্রহ পুজো না করাই শ্রেয়। বসে থাকা, শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপের দেবীই আরাধনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
বাস্তুশাস্ত্র বলছে, পদ্মফুলের উপর বসে থাকা সরস্বতীর মূর্তি বা ছবি অত্যন্ত শুভ। দেবীর মুখাবয়ব যেন শান্ত, প্রসন্ন ও স্নিগ্ধ হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। কোনওভাবেই ভাঙা, ফাটা বা ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি কিংবা ছবি বাড়িতে রাখা উচিত নয়। তাতে ঘরে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্বাস।
দেবীর সামনে বই, খাতা, কলম, ডায়েরি বা বাদ্যযন্ত্র রাখা অত্যন্ত শুভ লক্ষণ। এতে বিদ্যা ও সৃজনশীলতার আশীর্বাদ পাওয়া যায় বলে মনে করেন ভক্তরা। তবে পুজোর আগে অবশ্যই জায়গাটি ভাল করে পরিষ্কার করতে হবে। অপরিষ্কার স্থানে দেবী আরাধনা করলে পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না বলেই ধারণা।
পুজোর দিনে দেবী সরস্বতীকে সাদা কিংবা হলুদ ফুল অর্পণ করার রীতি প্রচলিত। এই দুই রং পবিত্রতা ও জ্ঞানের প্রতীক। সরস্বতী পুজো কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ঋতুরাজ বসন্তর (Spring) আগমনের বার্তাও বহন করে। বসন্ত পঞ্চমী (Basant Panchami) থেকেই প্রকৃতির রূপ বদলাতে শুরু করে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে দেবী সরস্বতীর আবির্ভাব হয়েছিল।