পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ক্যালেন্ডারে মস্ত ভুল
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ক্যালেন্ডারে মস্ত ভুল। যা নিয়ে তোলপাড় ঢেউ উঠেছে মন্দির শহরের সাগরপাড়ে। শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসন এই ঘটনায় বিরোধী দল বিজু জনতা দলের সুদর্শন চক্রের মুখে পড়েছে। বিজেডি-র রোষানল থেকে বাদ পড়েনি হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির সরকারও।
হিন্দু তীর্থস্থান পুরীর জগন্নাথ মন্দির প্রতিবছরের মতো জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার ছবিসহ ইংরেজি নববর্ষের ক্যালেন্ডার বিক্রি করে। এ বছরেও সেই ক্যালেন্ডার তৈরি হয়েছে। কিন্তু, ভক্তরা লক্ষ্য করেন যে গর্ভগৃহে থাকা বিগ্রহের মতো অবস্থানে নেই জগন্নাথ ও বলভদ্র। দুজনের স্থান অদলাবদলি হয়ে গিয়েছে। আর তার পরেই পুরীর জগৎ সংসার অন্ধকার হয়ে গিয়েছে।
বিষয়টি নজরে পড়তেই মন্দির কর্তৃপক্ষ ক্যালেন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে সব ক্যালেন্ডার তুলে নিয়েছে। মন্দিরের মুখ্য প্রশাসক অরবিন্দকুমার পাহাড়ী বলেন, এবছর ক্যালেন্ডারের ছবিটি নেওয়া হয়েছিল রাজ্য সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত একশো বছরের প্রাচীন তালপাতার উপর আঁকা একটি ছবি থেকে। এই ছবিটি সংগ্রহশালা থেকে তুলে এনে ক্যালেন্ডারে ছাপা হয়েছে। এটি সেই আমলের এক শিল্পীর আঁকা ছবি। আমরা এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা ক্যালেন্ডার বিক্রি বন্ধ রেখেছি, বলে জানান তিনি।
যদিও তার আগেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেডি এই ঘটনাকে মারাত্মক ভুল বলে ব্যাখ্যা করেছে। শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রশাসনের প্রকাশিত ইংরেজি নতুন বছরের ক্যালেন্ডারে এরকম অমার্জনীয় ভুল থাকা প্রভু জগন্নাথের বিশ্বজোড়া লাখো লাখো ভক্তের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে বলে বর্ণনা করেছে বিজেডি। সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেডির মুখপাত্র বলেন, সুভদ্রার ডানদিকে জগন্নাথ প্রভু এবং বলভদ্র রয়েছেন ডানদিকে। আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের পরিপন্থী এটা। বিজেডির অভিযোগ, এটা শুধু দেওয়াল ক্যালেন্ডারেই নয়, ডায়েরি ও টেবিল ক্যালেন্ডারেও ভুল ছাপা হয়েছে।
বিজেডি মুখপাত্র বলেন, এটা মন্দির প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও বিরাট গাফিলতি। পট্টচিত্র ব্যবহার করার আগে কেন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ক্যালেন্ডারের ছবিতে জগন্নাথের রথের অবস্থানও ভুল রয়েছে। প্রথা অনুযায়ী, একেবারে প্রথমে থাকে বলভদ্রের রথ, তারপরে সুভদ্রা ও শেষে জগন্নাথ। কিন্তু এখানে প্রথমে রয়েছে সুভদ্রা, তারপরে জগন্নাথ ও শেষে বলভদ্রের রথের ছবি।