বনবস্তির সুমিলার লড়াই
জঙ্গলের ভেতর দিয়ে দুর্গম পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় বুধুরাম বনবস্তিতে। গা ছমছমে পরিবেশ, সঙ্গে বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক। এই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কেউ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি। সেই ধারণা ভেঙে দিচ্ছে সুমিলা ওরাওঁ। এর আগে এক ছাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এবার গ্রামের প্রথম মেয়ে হিসেবে মাধ্যমিক দিচ্ছে সুমিলা।

সুমিলা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। বাবা মঞ্চাল ওরাওঁ কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। মা রূপালী ওরাওঁ কৃষিকাজ ও চায়ের বাগানে কাজ করে চার মেয়ের পড়াশোনার দায় সামলান। সুমিলা বড় মেয়ে। অভাব-অনটন তাদের নিত্যসঙ্গী। সুমিলার পড়াশোনা শুরু গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রতিদিন সাতসকালে বুধুরাম বনবস্তি থেকে গোরুমারা জঙ্গলের কাঁচা রাস্তা ধরে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সুমিলা। বাড়ি থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরের পানবাড়ি ভবানী হাইস্কুলে পড়াশোনা ও টিউশনের জন্য যেতে হয় তাকে। জঙ্গলের পথে প্রায়ই বাঘ, বাইসন, হাতি ও গণ্ডারের মতো বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি। জীবনবাজি রেখেই এই দুর্গম পথ পেরোয় সে।

সুমিলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিতোষ মণ্ডল জানান, ছাত্রী হিসেবে সুমিলা বরাবরই ভালো। জানান, গ্রামে বন্যপ্রাণীর আতঙ্কের পাশাপাশি রয়েছে আরও নানা সমস্যা। তাই এখানে কেউ উচ্চশিক্ষিত হতে পারেনি। বেশির ভাগ ছাত্র প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর পরপরই ভিনরাজ্যে চলে যায় কাজের খোঁজে। তবে তিনি আশাবাদী। সুমিলার স্বপ্ন, সে নার্স হবে। সে সেবা করবে তার বনবস্তির মানুষদের। এক বুক আশা নিয়ে সুমিলা যে স্বপ্ন দেখছে, তাতে সামিল হয়েছেন প্রতিবেশীরাও। সবাই তার সাফল্য কামনা করছেন।