অভিভাবকহীন ধূপগুড়ি পুরসভা, প্রশ্নের মুখে পরিষেবা!
অভিভাবকহীন অবস্থায় থাকা ধূপগুড়ি পুরসভার প্রভাব পড়ছে নাগরিক পরিষেবায়—এমনই অভিযোগ শহরবাসীর একাংশের। ২০২২ সালে শেষ হয় পুর বোর্ডের মেয়াদ। এরপর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ভারতী বর্মন, ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং এবং দুই প্রাক্তন কাউন্সিলরকে নিয়ে গঠিত হয় চার সদস্যের প্রশাসক মণ্ডলী। সম্প্রতি সেই বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধূপগুড়ির মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বাকে। কাউন্সিলর না থাকায় নিত্যদিনের সমস্যা নিয়ে বাড়ছে ভোগান্তির অভিযোগ। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলে দাবি ধূপগুড়ি নাগরিক মঞ্চের। পুর ভোটের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের তরফে পোস্টারিং ও প্রচার চলছে। তাঁদের সাফ কথা—মধ্যপন্থা নয়, একমাত্র সমাধান নির্বাচন। অবিলম্বে ভোটের দিন ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। মেয়াদোত্তীর্ণ বোর্ডে শাসক দল নিজেদের জনপ্রতিনিধিদের বসিয়ে রেখেছিল—এমন অভিযোগ বিজেপির।

এখন আমলাদের হাতে দায়িত্ব দিয়ে ভোট এড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় এলে এক মাসের মধ্যে পুর নির্বাচন করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে না বলেই দাবি তৃণমূলের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ কুমার সিং-এর। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিকভাবেই চলছে পুরসভার কাজ। একইসঙ্গে পুর ভোট হলে তৃণমূলই জয়ী হবে বলেও আশাবাদী তিনি। প্রায় তিন বছর ধরে ধূপগুড়ি পুরসভায় নেই কোনও নির্বাচিত বোর্ড। ২০২২ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক মণ্ডলীর হাত ঘুরে এখন দায়িত্ব মহকুমা শাসকের উপর। পরিষেবা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর তীব্র হলেও এখনও স্পষ্ট নয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে কবে হবে পুর ভোট? সেই উত্তরেই তাকিয়ে ধূপগুড়ির নাগরিকরা।