একটার পর একটা দুর্ঘটনায় নেমে এসেছিল শোকের ছায়া
এই রাস্তা একসময় পরিচিত ছিল দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে । ঝাড়গ্রামের জঙ্গলকুরচি গ্রামের এই পথ দিয়ে চলতে ভয় পেতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটার পর একটা দুর্ঘটনায় নেমে এসেছিল শোকের ছায়া । ভেঙ্গে পড়েছিল বহু পরিবার। ঠিক সেই সময় গ্রামের কয়েকজন মানুষ পান এক স্বপ্নাদেশ । জঙ্গলে বড়াম মায়ের পুজো শুরু হলে এলাকায় আর দুর্ঘটনা ঘটবে না। আর সেই স্বপ্নকেই কেন্দ্র করে গ্রামবাসীরা একত্রিত হন। গঠন হয় একটি কমিটি। ওই এলাকায় প্রতিষ্টা করা হয় বড়াম মায়ের থান । শুরু হয় নিয়মিত পুজো । শুরুর দিকে পুজো ছিল খুবই সাধারণ । সোনালী গাছের নিচে মাটির তৈরি হাতি আর ঘোড়া । সময়ের সঙ্গে বদলেছে ছবি। আজ বড়াম মায়ের পুজো একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে । এ বছর নবম বছরে পা দিয়েছে এই পুজো।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, বড়াম মায়ের আশীর্বাদেই কমছে দুর্ঘটনা । বিপদে পড়লে বা মানত করলে এখানে এসে পুজো দেন বহু মানুষ । অনেকের মনস্কামনা পূর্ণ হয়েছে বলেই দাবি। এলাকাকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করতে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় যুবকেরা । কংক্রিট দিয়ে ঘেরা হয়েছে থান । বসানো হয়েছে বড় আকারের হাতি আর ঘোড়া। তৈরি হয়েছে আলাদা পথ। বিশ্বাস, ভক্তি আর মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে আজ এই বড়াম মায়ের থান শুধু উপাসনার স্থান নয়। এই থান আজ এলাকার মানুষের কাছে নিরাপত্তা আর ভরসার প্রতীক। কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।
