ভোটে জাগে প্রশাসন!
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে পিচ রাস্তা পেল ভালকিশোল লোধাপাড়ার মানুষ। রাস্তার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন গোপীবল্লভপুর বিধানসভার বিধায়ক ডা. খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। দরাজ গলায় ঘোষণা করলেন সেই পিচ রাস্তার। স্বাধীনতার পর কেটে গিয়েছে প্রায় আট দশক। এই সময়ে বদলেছে সরকার, বদলেছে প্রশাসন, বদলেছে উন্নয়নের ভাষা। তবুও ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের খুদমরাই গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষ এতদিন হেঁটেছেন শুধু কাদার ওপর দিয়েই। হঠাৎ নির্বাচনের আগে পিচ রাস্তা। স্থানীয়দের কথায়, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি এসেছে বহুবার। ভোট মিটলেই সব ভোঁ-ভাঁ।

কাগজে-কলমে উন্নয়নের হিসাব থাকলেও, বাস্তবে রয়ে গেছে কাদা আর ধুলো। বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে একই কষ্ট বয়ে এনেছে একের পর এক প্রজন্ম। ৭৫ বছরের এক ব্যক্তি জানালেন তার জীবদ্দশায় এই রাস্তা দেখে যেতে পারছেন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তিনি যথেষ্ট খুশি।
ভোট এলেই রাস্তা, জল, আলো—প্রশাসনের সব মনে পড়ে। ভোট না থাকলে প্রশাসনের আচরণ ধৃতরাষ্ট্রের মতো । ঘুম কুম্ভকর্ণের মতো । জনদুর্ভোগের কথা কারো মনে থাকে না । বিধায়ক প্রকল্পের ফিতে কাটেন । স্থানীয় মানুষজন খুশি হন। আজ ভালকিশোল লোধাপাড়ায় রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার আশায় - মুখে হাসি সবার। তবে এই গল্প শুধু উন্নয়নের নয়। এই গল্প প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা অবহেলা আর প্রজন্মের অপেক্ষার দলিল। প্রশ্ন একটাই আজ যদি প্রশাসনের পক্ষে রাস্তা করা সম্ভব হয়, তবে এত বছর কেন সম্ভব হয়নি? তবে মন্দির ভালো শুরু তো হল।