মুকুলে আশার আলো, বাড়ছে সতর্কতা
আমের মরশুমের আগাম ইঙ্গিত মিলছে মালদার বিভিন্ন প্রান্তে। অধিকাংশ গাছেই এখন মুকুল এসেছে। সময়ের আগেই মুকুল দেখা দেওয়ায় একদিকে যেমন ভালো ফলনের আশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। সামান্য তাপমাত্রা পরিবর্তন, ঘন কুয়াশা কিংবা অকালবৃষ্টি মুকুলের ক্ষতি করতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চাষিরা। ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও ছত্রাকজনিত রোগের আক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে। চাষিদের সঠিক দিশা দেখাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। গাছে কতটা সেচ প্রয়োজন, কোন ওষুধ কত মাত্রায় এবং কত ব্যবধানে প্রয়োগ করতে হবে—সেসব বিষয়ে মাঠে গিয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। প্রথম দফায় ম্যানকোজেব ও কার্বেনডাজিম অথবা টেবুকোনাজল ও ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রোবিন ব্যবহার করতে হবে।

দ্বিতীয় দফায় থায়ামেথক্সাম বা ইমিডাক্লোপ্রিড প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর তৃতীয় দফায় ল্যাম্বডা সাইহ্যালোথ্রিন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, নির্দিষ্ট মাত্রা ও নির্ধারিত সময়ের ব্যবধান মেনে স্প্রে করলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা যথেষ্ট বাড়বে। পাশাপাশি মুকুলে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমতে না দেওয়া এবং ছত্রাক সংক্রমণ রুখতেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। চাষিরাও সেই পরামর্শ মেনেই গাছের পরিচর্যা করছেন। ফলে এবারে ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী তাঁরা। মালদা জেলায় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আম চাষ হয়। কয়েক লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই চাষের সঙ্গে যুক্ত। বছরের শুরুতেই মুকুল আসায় ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন চাষিরা। সব কিছু অনুকূলে থাকলে আগামী দু’মাসের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে মালদার সুস্বাদু আম। এখন নজর শুধুই আবহাওয়ার দিকে।