জ্ঞানেশের সঙ্গে বৈঠক 'বয়কট' করে বললেন মমতা
এসআইআর (SIR West Bengal) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ জানাতে দিল্লি গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কিন্তু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রস্তাবিত সেই বৈঠক হয়েও হল না। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। জানালেন, "এরকম মিথ্যাবাদী কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহুদিন রাজনীতি করেছি, এরকম ঔদ্ধত্য আগে দেখিনি আমি।" তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে কমিশন।
জীবিত হয়েও নির্বাচন কমিশনের নথিতে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত ৫০ জন ভোটারকে রাজধানীতে নিয়ে গিয়েছে শাসকদল। পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে পরিবারের কোনও না কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে— এমন অভিযোগ থাকা আরও ৫০ জনকেও দিল্লিতে আনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ইস্যুতেই সোমবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এসআইআর-এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা কয়েক জন ভোটার ও পরিবারের সদস্যদের কমিশনের সামনে হাজির করানো হয়।
সোমবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ আরও দুই নির্বাচন কমিশনার। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম, হয়রানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ তুলে ধরে কমিশনের কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রস্তাবিত বৈঠকে তাঁরা যোগ দেননি। মমতার অভিযোগ, বৈঠকের আগেই তাঁদের অসম্মান ও অপমান করা হয়েছে।
নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অসম্মান, অপমান করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, কমিশনের বৈঠকে এমন একজনকে উপস্থিত করা হয়েছিল যিনি নির্বাচন কমিশনের কোনও আধিকারিক নন। মমতার প্রশ্ন, “সীমা খন্না কে? উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন। বিজেপির আইটি সেলের লোক।”
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ এত বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রশ্নই তোলা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। কমিশনের এই নীরবতা নিয়েই তাঁর যত আপত্তি।
বৈঠকে ‘এসআইআর-এ ভুক্তভোগী’ ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের শুরুতেই তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। সেই প্রসঙ্গেই ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার দাবি, “যাঁরা হিন্দু-মুসলমান করেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন? এখানে দু’জন মুসলিম রয়েছেন। ক’জন হিন্দু?” ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই মনে করছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে কোনও বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বাছাই করার যে অভিযোগ উঠছে— তা-ই সামনে আনতে চেয়েছেন তিনি।