ভোটের আগে রাজ্যের সিভিল সার্ভিস অফিসারদের পাশে মমতা
ভোটের মুখে ‘রাজ্য প্রশাসনের ভিত আরও মজবুত’ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন (Nabanna)। ডব্লিউবিসিএস (WBCS Executive) ক্যাডারের অফিসারদের কেরিয়ার অ্যাডভান্টেজ বাড়াতে এক ধাক্কায় একাধিক উচ্চপদ সৃষ্টিতে ছাড়পত্র দিল রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তে যেমন রাজ্যের সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের প্রোমোশন-চ্যানেল প্রশস্ত হল, তেমনই শীর্ষ প্রশাসনে রাজ্য ক্যাডারের উপস্থিতি ও প্রভাব আরও দৃঢ় হল। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আগে এটি স্পষ্ট বার্তা—রাজ্য ক্যাডারের পাশে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরকার।
প্রমোশনের সুযোগের অভাব ও মহার্ঘ ভাতা তথা ডিএ-র (DA) বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্ভিস ক্যাডারের অফিসারদের মধ্যেও গত কয়েক বছর ধরে অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁদের মহার্ঘ ভাতার ফারাক বিস্তর। প্রমোশনের সুযোগ বাড়লেও সেই ফারাক মিটবে না। এহেন পরিস্থিতিতে ভোটের মুখে নবান্নর এই পদক্ষেপ ‘তুষ্টিকরণের’ চেষ্টা বলেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এও বলছেন, এক শ্রেণির আইএএস অফিসার যখন সরাসরি নির্বাচন কমিশন বা কেন্দ্রের নির্দেশে কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন, তখন কৌশলগত ভাবে রাজ্য তার নিজের অফিসারদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বুধবার তথা ২১ জানুয়ারি জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস দফতর জানিয়েছে, ডব্লিউবিসিএস ক্যাডারে যুগ্ম সচিব স্তরে ১০০টি এবং বিশেষ সচিব তথা স্পেশাল সেক্রেটারি স্তরে ৪০টি অতিরিক্ত পদ তৈরি করা হচ্ছে। নতুন পদগুলি কার্যকর হবে ২০১৯ সালের রোপা রুল (WBS (ROPA) Rules, 2019) অনুযায়ী নির্ধারিত পে-লেভেলে।
কোন স্তরে কত পদ বাড়ল
জয়েন্ট সেক্রেটারি ও সমতুল (Pay Level 21): আগে অনুমোদিত ছিল ২৫০টি পদ। নতুন করে ১০০টি যুক্ত হওয়ায় মোট পদের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫০। স্পেশাল সেক্রেটারি ও সমতুল (Pay Level 24) আগে ছিল ১০০টি পদ। ৪০টি নতুন পদ যুক্ত হয়ে মোট হল ১৪০। ফলে WBCS ক্যাডারের শীর্ষ স্তরে প্রোমোশনের পথ এক ধাক্কায় অনেকটাই চওড়া হল। নবান্নের এক কর্তার কথায়, বলা যেতে পারে গলি থেকে রাজপথে পরিণত হল।
অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি স্তরেও সুবিধা
একই নির্দেশে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি (Pay Level 22) স্তরেও পদবৃদ্ধির সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন করে বাড়ানো জয়েন্ট সেক্রেটারি পদের মোট সংখ্যার ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৪০টি পদ, কনভার্সনের মাধ্যমে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি স্তরে উন্নীত করা যাবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এতে ধারাবাহিক প্রোমোশনের রাস্তায় দীর্ঘদিনের জট অনেকটাই কাটবে।
প্রশাসনিক সূত্রের একাংশের ব্যাখ্যা—ভোটের আগে এই ক্যাডার রিস্ট্রাকচারিং নিছক দফতরি সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রোমোশন জট ও উচ্চপদে পৌঁছনোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল, তা প্রশমিত করাই মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে রাজ্য ক্যাডারের মনোবল চাঙ্গা করার রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট।