ইডি-হানার প্রতিবাদে মমতার হুঁশিয়ারি
তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এ দিন আরও চড়া সুরে বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
যাদবপুর থেকে হাজরা- দীর্ঘ মিছিল শেষে প্রকাশ্য সভা থেকে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করে হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, “শুনুন আপনাদের এখনও ভাগ্য ভাল, আমি চেয়ারে আছি বলে ওই পেনড্রাইভগুলো এখনও বাইরে বের করে দিইনি। আমার কাছে সব পেনড্রাইভে রাখা আছে। বাড়াবাড়ি করলে ফাঁস করে দেব।”
'আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা মেন্টেন করি' জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কিন্তু লক্ষ্মণরেখা বলে একটা আছে। সেটা পেরিয়ে গেলে আর সামলে রাখতে পারবেন না।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের স্বার্থেই তিনি এগুলি এখনও ফাঁস করেননি। বলেন, "আমি মুখ খুললে সারা দেশে হইচই হবে। বলি না, কারণ দেশটাকে ভালবাসি। এটা আমার দুর্বলতা নয়।"
বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশির মধ্য়েই আইপ্যাকের কর্ণধারের ঘর থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একটি সবুজ ফাইল দেখা যায়। ওই ফাইলে কী আছে, ইডি বা তা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিল কীভাবে তা নিয়ে নানা মহলে যখন জল্পনা তুঙ্গে তখনই পেনড্রাইভের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কৌতূহলের জল্পনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কয়লা পাচারের টাকা শুভেন্দুর মাধ্যমে অমিত শাহের কাছে যায়। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের জবাবে শুভেন্দু বা বিজেপির তরফে কী জবাব আসে তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।
ইডির তল্লাশিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বিরোধী কণ্ঠ রোধ করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ‘প্রতিস্পর্ধার জবাব’ বলে ব্যাখ্যা করছেন দলের নেতারা। মিছিলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ওই বক্তব্য ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানাচ্ছেন, রাজপথে যেমন লড়াই চলবে, তেমনই আইনি পথেও তার জবাব দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে কেন্দ্রের উদ্দেশে কড়া বার্তা, সীমা ছাড়ালে পাল্টা আঘাত আসবে। ইডি-হানার আবহে এই হুঁশিয়ারি যে রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করবে, তা বলাই বাহুল্য।
কটাক্ষের সুরে মমতা আরও বলেন, “আগে গব্বর সিং দেখিয়ে বাচ্চাদের ভয় দেখানো হত। এরা ভাবছে এজেন্সি দিয়ে সেই ভয় দেখাবে। তুমি আজ মহারাজ, সাধু— আর আমি চোর? কাল ক্ষমতা থেকে চলে গেলে কেউ পাশে থাকবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট— কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘ভয়’ দেখিয়ে রাজনীতিতে দাগ কাটার চেষ্টা আর বরদাস্ত করতে রাজি নন তিনি।