ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিতেই আঘাত করছে
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) জাতীয় ভোটার দিবস (National Voters' Day) পালনকে ‘করুণ প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন এই মুহূর্তে ঠিক তার উল্টো কাজেই ব্যস্ত। ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’-এর ভূমিকা নিয়ে কমিশন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলেও তোপ দাগেন তিনি। জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপনের ঔদ্ধত্যে তিনি স্তম্ভিত, বিস্মিত ও বিচলিত, এ কথাও স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার বক্তব্য, মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা কিংবা বিধি-নিয়ম অনুসরণ করে নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করার বদলে নির্বাচন কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র মতো নতুন নতুন অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে। তার জেরে সাধারণ মানুষ নিগৃহীত হচ্ছেন, বহু ক্ষেত্রে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, এমনকি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ভোটাধিকার। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপির স্বার্থে বিরোধীদের দমন করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যা ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিতেই আঘাত করছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, এই ‘অভূতপূর্ব অত্যাচারের’ ফলেই এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ৮৫, ৯০, এমনকি ৯৫ বছর বয়সি মানুষকে এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী নাগরিকদেরও কমিশনের সামনে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই ধরনের বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলেই আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলেও দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এসবই হচ্ছে কমিশনের ‘রাজনৈতিক প্রভুদের’ নির্দেশ ও স্বার্থে।
তিনি এক্স হ্যান্ডেলে আরও লেখেন, গোটা প্রক্রিয়াটিকে কার্যত একটি এনআরসি-র রূপ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষ বিশেষভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব হলেও, কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও একতরফা বেআইনি পদক্ষেপ— মাইক্রো অবজারভার পাঠিয়ে নিগ্রহ বাড়ানো, মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং গণতন্ত্রকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের আজ ভোটার দিবস পালনের কোনও নৈতিক অধিকার নেই বলেই সাফ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বস্তুত, এদিন সকাল থেকেই রাজ্যের সর্বত্র ব্লকে ব্লকে এসআইআরে হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে তৃণমূল। শনিবাসরীয় বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও নানাবিধ বিষয় কার্যকর না-হওয়া নিয়ে রবিবার অর্থাৎ আজ কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে তৃণমূল প্রতিনিধি দল পাঠাবে। এবং সেখানে নানাবিধ প্রশ্ন রাখা হবে।