ভোটের মুখে বাংলাকে নিউইয়ার্স গিফট মোদীর
নতুন বছরের শুরুতেই রেলযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর। প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন (Vande Bharat Sleeper Train) পাচ্ছে বাংলা। দীর্ঘপথে এবার আর শুধু বসে নয়, শুয়েই যাতায়াত করা যাবে। গুয়াহাটি (Guwahati) থেকে কলকাতা (Kolkata) রুটে চালু হতে চলেছে এই অত্যাধুনিক স্লিপার ট্রেন।
বৃহস্পতিবার, বছরের প্রথম দিন নয়া রুটের ঘোষণা করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Railway Minister Ashwini Vaishnaw)। তাঁর কথায়, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister Narendra Modi) এই ট্রেনের উদ্বোধন করবেন।
বাংলার জন্য এই ঘোষণা যে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। কারণ, চলতি বছর রাজ্যে নির্বাচন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাংলার মানুষের মন পেতেই কি নতুন বছরের শুরুতে এই ‘মেগা গিফট’ কেন্দ্রের? রেলমন্ত্রকের যদিও বক্তব্য, যাত্রীচাহিদা এবং দীর্ঘপথে আরামদায়ক সফরের প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।
এর আগে হাওড়া (Howrah) থেকে নিউ জলপাইগুড়ি, পুরী-সহ একাধিক রুটে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ছুটছে বাংলায়। প্রতিটি রুটেই যাত্রীদের মধ্যে টিকিটের ব্যাপক চাহিদা চোখে পড়ার মতো। সেই অভিজ্ঞতার উপর ভর করে এবার আরও এক ধাপ এগোল রেল। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলার যোগাযোগ মজবুত করতে গুয়াহাটি-কলকাতা রুটে স্লিপার বন্দে ভারত চালুর সিদ্ধান্ত বলে জানাল কর্তৃপক্ষ।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই ট্রেনটি তৈরি হবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে। মোট ১৬টি কোচ নিয়ে চলবে বন্দে ভারত স্লিপার। পুরো ট্রেনই থাকবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (Air Conditioned)। যাত্রী নিরাপত্তার জন্য থাকছে অত্যাধুনিক কবচ (Kavach) সিস্টেম, পাশাপাশি ইমার্জেন্সি টক ব্যাক সিস্টেম (Emergency Talk Back System)-এর মতো একাধিক আধুনিক সুবিধা। সব মিলিয়ে প্রিমিয়াম পরিষেবার অভিজ্ঞতা দিতে কোনও খামতি রাখছে না রেল।
কোচ বিন্যাসেও রয়েছে বিশেষ চমক। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬টি কোচের মধ্যে ১১টি এসি থ্রি-টায়ার (AC 3 Tier), চারটি এসি টু-টায়ার (AC 2 Tier) এবং একটি ফার্স্ট ক্লাস এসি (First Class AC) কোচ থাকবে। এই ট্রেনে একসঙ্গে ৮২৩ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন। দীর্ঘ রাত্রিযাত্রায় আরাম, নিরাপত্তা ও গতি—এই তিনের মেলবন্ধনই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের মূল আকর্ষণ।
দেশের প্রিমিয়াম ট্রেনগুলির তালিকায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ইতিমধ্যেই আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সময় বাঁচানো, ঝাঁকুনিহীন সফর এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য এই ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয়। এবার সেই বন্দে ভারতই স্লিপার সংস্করণে নামছে ট্র্যাকে। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বাংলার বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও মজবুত হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, নতুন বছরের শুরুতেই এই ঘোষণায় খুশি রেলযাত্রীরা। জানুয়ারির মাঝামাঝি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের দিকে এখন তাকিয়ে বাংলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন আদৌ কতটা যাত্রীবান্ধব হয়, সেটা এখন দেখার।