'নীতিপুলিশি'-অন্যায় হাজত!
কৃষ্ণনগরের সেনপুর শ্যামনগর পাড়ার বাসিন্দা আমির চাঁদ শেখ মায়ের মৃত্যুর পর আইন মেনেই কর্ণিয়া দানের উদ্যোগ নেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থা নিয়ম মেনে চক্ষু সংগ্রহ করে। দায়িত্ব নিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশী রটিয়ে দেয় —চোখ নয়, কিডনিও বিক্রি হয়েছে লাখ লাখ টাকায়! অভিযোগ পৌঁছয় থানায়। পুলিশ আসে। মৃতদেহ যায় ময়নাতদন্তে। গ্রেফতার হন আমির চাঁদ সহ পরিবারের পাঁচজন। রিপোর্ট বলল অন্য কথা—শুধুমাত্র চক্ষুদান। অন্য কোনও অঙ্গহানি হয়নি। সরকারি স্বীকৃতিপত্রও পৌঁছয় হাতে—মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল-এর আই ব্যাঙ্ক লিখিতভাবে জানায়, সব কিছু হয়েছে আইন মেনে। তাহলে প্রশ্ন—কে ছড়াল এই অপপ্রচার? কেনই বা শোকাহত একটি পরিবারকে হাজতবাসের মুখ দেখতে হল? আমি কোনো অন্যায় করিনি। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকবো। দৃঢ় কন্ঠে জানালেন আমির

অন্ধ মানুষ আলো পাবে, সেই দান তো মহৎ কাজ। আমার ছেলে অন্যায় করেনি। স্পষ্ট করে বললেন আমির চাঁদের বাবা আবুল শেখ। সৎ কাজ তো কি হয়েছে এলাকার গজিয়ে ওঠা কিছু নীতি-পুলিশদের কাছে তো এটা কূট-কচালির বিষয়। তাই এখনো হাসাহাসি হয়। সেদিনের গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিলেন আমির চাঁদের ছোটবেলার বন্ধু। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ-এর সদস্যরা এসে পরিবারের পাশে দাঁড়ান। মানবিকতার নামে নয়, মানবিকতার বিরুদ্ধেই যেন বিচার বসেছিল। আর বিচারক এই গজিয়ে ওঠা নীতি-পুলিশ। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—এলাকায় গজিয়ে ওঠা এই নীতিপুলিশেরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?
