গৌরের অন্নপ্রাশন নবদ্বীপে
নবদ্বীপের প্রাণকেন্দ্র পোড়ামাতলার পাশেই মহাপ্রভু পাড়া। সেখানেই অবস্থিত প্রাচীন ধামেশ্বর মহাপ্রভু মন্দির। লোকবিশ্বাস, এখানে সংরক্ষিত আছে মহাপ্রভুর চরণপাদুকা—সন্ন্যাস গ্রহণের আগে যা তিনি দিয়ে গিয়েছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী-কে। পরবর্তীতে বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী নিজেই সেই চরণপাদুকার পূজা করতেন। আজও তাঁর চতুর্দশ পুরুষ বংশধরেরা এই মন্দিরে দারুবিগ্রহ ও চরণপাদুকার নিত্যসেবা করে চলেছেন।দোলপূর্ণিমার দিন মহাপ্রভুর জন্মোৎসব, অভিষেক ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানোর বিশেষ আচার পালিত হয়। কিন্তু উৎসবের আবেগ থেমে যায় না সেখানেই। দোলের পরের দিন মন্দিরে পালিত হয় এক বিরল আচার—মহাপ্রভুর অন্নপ্রাশন।

মন্দিরের নাটমন্দিরে সাজানো হয় অন্নকূট—অন্নের চূড়া গোবর্ধন পর্বতের আদলে। ছাপ্পান্ন ভোগ, ছাপ্পান্ন রকম তরকারি ও মিষ্টান্নে ভরে ওঠে মঞ্চ। বিষ্ণুপ্রিয়া দেবীর বংশধর পরিবারের বধূরা নিজের হাতে প্রস্তুত করেন এই ভোগ। প্রতীকীভাবে রাখা হয় ঝিনুকবাটি, চুষিকাঠি, ঝুমঝুমি ও বল—যেন এক নবজাতকের অন্নপ্রাশনের আয়োজন।জন্মতিথির সেই চন্দ্রগ্রহণের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করেই এই আচার আজও পালিত হয়। দোলের রঙ মুছে গেলেও নবদ্বীপে উৎসবের আবেশ কাটে না—কারণ এখানে গৌরের জন্ম শুধু স্মরণ নয়, জীবন্ত আচার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহমান।