You will be redirected to an external website

ধ্বংসের মুখে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প!

NABADWIP-WESTBENGAL-NADIA-ART-TAT

ধ্বংসের মুখে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প!

নয়ের দশকে নবদ্বীপের বৌবাজার এলাকায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল হস্তচালিত তাঁত। গ্রামের সিংহভাগ মানুষের সংসার চলত তাঁতের শাড়ি বুনে। এরপর ধীরে ধীরে বাজার দখল করল পাওয়ারলুম। বড় ব্যবসায়ীরা গড়ে তোলেন কারখানা। অনেক শ্রমিক হ্যান্ডলুম ছেড়ে যোগ দেন পাওয়ারলুমে। তার ওপর করোনার সময় দীর্ঘ অচলাবস্থা। সুতোর দাম বাড়ে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি হয় লাগামছাড়া। আন্দোলনের জেরে মজুরি বাড়লেও আর ফেরেনি আগের বাজার। সংসার চালাতে তাই ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে এলাকার বর্তমান প্রজন্ম। বর্তমানে সস্তার ছাপা শাড়ি ও সুরাটের মিলের সিনথেটিক শাড়ি বাজার দখল করেছে। লোকসানের মুখে পড়ে একের পর এক তাঁত কল বন্ধ হয়ে গেছে। স্বল্প মজুরিতে কাজ করতে না পেরে শ্রমিকেরা অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। একটা সময় ছিল যখন এই তাঁত শিল্পের আয়েই চলত সংসার। সময় বদলেছে। এখন যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে উঠছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বদলেছেন পেশা। আবার কেউ বয়সের ভারে পুরনো কয়েকটি তাঁত আঁকড়ে ধরে আছেন শেষ আশ্রয় হিসেবে। 

তাঁত শিল্পের বর্তমান এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় নীতিকেই দায়ী করছেন অনেকে। তাঁদের দাবি, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট সহায়তা ও ভর্তুকি প্রয়োজন শ্রমিক সংকট, সুতোর অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি এবং বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় অনেকেই মুখ ফিরিয়েছেন এই শিল্প থেকে। বহু শ্রমিক কাজ ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। কেউ টোটো কিনে চালাচ্ছেন, কেউ বা খুলেছেন ছোটখাটো চায়ের দোকান। নবদ্বীপের চরমাজদিয়া চরব্রহ্মনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বৌবাজার এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটি তাঁতের কল এখনও সচল। তবে মালিক-শ্রমিক—উভয় পক্ষেরই আক্ষেপ একটাই—ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে নবদ্বীপের শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্য। গৌরবময় অতীত আজ শুধুই স্মৃতি। এখন প্রশ্ন একটাই—এই শিল্প কি আর ফিরে পাবে তার পুরনো দিন?

AUTHOR :Sanjib Ghosh

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হিমাচল! মান্ডিতে হাড়পা বানে তলিয়ে গেল বাড়ি, নিখোঁজ বহু, সরকারের হিসেব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ২৩ জন Read Previous

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্য...

MALDA-WESTBENGAL-MANGO-FAMOUS-FRUIT Read Next

মুকুলে আশার আলো, বাড়ছে স...