ভক্তি ও বিশ্বাসের মিলন
কৃষ্ণনগর ১ ব্লকের হরিশপুর ও চামটার মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে এক সুবিশাল বটবৃক্ষ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই গাছ হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন। আর এই বট বৃক্ষের তলায় বাবা পঞ্চাননের মন্দির। পাঁচ মাথার শিব পঞ্চানন। সারা দেশে এমন রূপ আর কোথাও নেই বলেই দাবি গ্রামবাসীদের। কথিত আছে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু একসময় এই বটতলায় বিশ্রাম নিয়েছিলেন। প্রতিবছর সরস্বতী পুজোর পরের মঙ্গলবার জাঁকজমক সহকারে বাবা পঞ্চাননের পূজো হয়। টানা তিন দিন ধরে চলে এই পুজো ও গ্রাম্য মেলা। ভোর থেকেই ভক্তদের ভিড়, কেউ আসেন মানত করতে, কেউ রোগমুক্তির আশায়, আবার কেউ সন্তানের প্রার্থনায়। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে নিষ্ঠা করে পুজো দিলে কঠিন রোগ সারে, নিঃসন্তান দম্পতির কোল আলো করে সন্তান আসে।

এই পুজো উপলক্ষ্যে মন্দিরের উল্টোদিকের মাঠে বসে মেলা , সঙ্গে বাউল গানের আসর। পুজোর দিন সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। এই মন্দিরের নিত্য সেবাইত শুভ্র ভট্টাচার্য। পুরোহিতের কথায়," এই মন্দিরের মাহাত্ম্য অপরিসীম। স্বয়ং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এখানে এসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।"শতাব্দী পেরিয়েও বিশ্বাস অটুট। বটতলার ছায়ায় আজও মানুষের ভরসার নাম বাবা পঞ্চানন। যেখানে ধর্ম শুধু আচার নয় ,মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অনুভূতি।