হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন আরেকজন
নিপা আক্রান্ত দুই নার্সের শারীরিক অবস্থার উন্নতি (Nipah Virus Nurse Health Update)। মহিলা নার্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই কোমায় চলে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ভেন্টিলেশনে রেখেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। অবশেষে তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করা হল। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও সঙ্কট কাটেনি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অন্যদিকে, ভাইরাস আক্রান্ত পুরুষ নার্স অনেকটাই ভাল আছেন, তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে (Nipah Virus)। আপাতত বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকবেন তিনি।
চলতি মাসের শুরুতেই নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus in West Bengal) আতঙ্ক ছড়িয়েছিল বাংলায়। এই দুই নার্সের সংক্রমিত হওয়ার খবর সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। নিপা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই মহিলা নার্সের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তিনি কোমায় চলে যান। যাঁরা এই দু'জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন, এমন ৮২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছিল। যদিও তাঁদের কারও শরীরের ভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি।
বারাসতের হাসপাতালে (Barasat Hospital) দুই নার্সের চিকিৎসা চলছিল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, নিপা আক্রান্ত মহিলা নার্স এখন উঠে বসতে পারলেও চোখ খুলতে পারছেন না। কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে তাঁকে। পুরুষ নার্সকে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা হবে। তাঁকে আপাতত ক'দিন পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের বন বিভাগ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি মিলিয়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৯টি বাদুড় ধরা হয়েছিল। প্রতিটি বাদুড়ের শরীর থেকে তিন ধরনের সোয়াব নিয়ে আরটিপিসিআর পরীক্ষা (Bats RT-PCR Test Negative) করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, সব বাদুড়ই নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) জন্য নেগেটিভ। তবে একটিতে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট হয়, ওই বাদুড় অতীতে নিপার সংক্রমণ বহন করেছিল। অর্থাৎ, বর্তমানে কোনও বাদুড়ের শরীরে ভাইরাস নেই।
বলা যায়, নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) সংক্রান্ত আতঙ্ক এখন কিছুটা কমেছে। বাদুড়ের আরটিপিসিআর রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় এবং আক্রান্ত নার্সের শারীরিক অবস্থার ধীরে উন্নতির কারণে রাজ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তবুও স্বাস্থ্য দফতর ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক রয়েছেন।