এবার টুটু বসুকে হিয়ারিংয়ের নোটিস!
তৃণমূল সাংসদ দেব (TMC MP Dev) থেকে শুরু করে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্লা (Laxmiratan Shukla), অন্যদিকে ভারতীয় পেসার মহম্মদ সামি (Mohammad Shami) থেকে নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন (Amartya Sen)... রাজ্যের এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়ার শুনানিতে এইসব ব্যক্তিত্বদের পাঠানো হয়েছে হিয়ারিং নোটিস (SIR Hearing Notice)! নামগুলি দেখে স্বাভাবিকভাবেই তাজ্জব অধিকাংশ। এবার এই তালিকায় নাম জুড়ল মোহনবাগান (Mohunbagan AC) কর্তা টুটু বসুর (Tutu Basu)। তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় পরিচয় ও তথ্য যাচাইকে গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই সূত্রেই বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রেও নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে। কমিশনের তরফে এও জানানো হয়েছে, যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি ধরা পড়েছে তাঁদের সকলকেই নোটিস পাঠানো হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে টুটু বসুর নাম উঠে আসায় আবারও বিতর্ক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়ে পোস্ট করে কুণাল ঘোষ (TMC Leader Kunal Ghosh) লিখেছেন - মোহনবাগান ও ফুটবলের অন্যতম প্রাণপুরুষ, প্রাক্তন সাংসদ, সফল বাঙালি উদ্যোগপতি টুটু বোসকে সপরিবার নোটিস দিয়ে ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। ১৯ জানুয়ারি হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তাঁকে এখন প্রমাণ দিতে হবে তিনি বাংলার নাগরিক। তৃণমূল নেতার হুঁশিয়ারি, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি বাংলা, বাঙালি আর বঙ্গবাসীর উপর এই অত্যাচারের জবাব পাবে আসন্ন নির্বাচনে।
সোমবার কমিশনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, অসঙ্গতিগুলি এক ধরনের নয়। তার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্ক, বয়সের ব্যবধান ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল। ভাঙা হিসাব বলছে -
বাবার নামের গরমিল: ৫০ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটারের
মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম: ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার ভোটারের
মা–বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ৫০ বছর বা তার বেশি: ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ভোটারের
ঠাকুরদা ও নাতি–নাতনির বয়সের ফারাক মাত্র ৪০ বছর: ২ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের
‘প্রোজেনি ৬’ (একজন ভোটারের সঙ্গে ছয় জন উত্তরাধিকারীর নাম যুক্ত): ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোটারের
নির্বাচন কমিশনের এক সূত্রের বক্তব্য, এই ২৮ লক্ষ ৪৮ হাজারের মধ্যেই রয়েছেন সেই সব ভোটার, যাঁদের বয়স ৪৫ হলেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই।
কমিশন স্পষ্ট করেছে, লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি মানেই নাম বাতিল, এমন নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য যাচাই না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।