স্বাস্থ্যভবনের অদূরেই ধরপাকড় পুলিশের!
'বৈঠকে ডেকেও কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে?' প্রশ্ন আন্দোলনকারী আশা কর্মীদের (Asha Workers)। স্বাস্থ্যভবন অভিযান (Swasthya Bhawan Abhijan) শুরুর আগেই বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় কার্যত রাজ্যজুড়ে। জেলায় জেলায় তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ, এমনকি শিয়ালদহ স্টেশনে (Sealdah Station) পৌঁছালে সেখানে জিআরপি তাঁদের আটকায় বলেও অভিযোগ। কয়েকজন পুলিশের নজর এড়িয়ে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পৌঁছালে সেখানে শুরু হয় পুলিশের ধরপাকড়। আজ বৈঠক না হলে আগামী দিনে কর্মবিরতি চলবে, এমনকি বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
আশাকর্মীদের (Asha Workers) দাবি, গত ১৫ তারিখ তাঁরা সময় চেয়েছিলেন কিন্তু স্বাস্থ্য সচিব জানান তিনি ছুটিতে থাকবেন। তাই ২১ তারিখ আসতে বলা হয়েছিল। সেইমতোই আজ স্বাস্থ্যভবন অভিযান কর্মসূচি নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
বহু আশাকর্মীর দূর দূর থেকে আসবেন। কেউ মালদহ, কেউ মেদিনীপুর- নানা জেলা থেকে এদিন স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছানোর কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ, স্টেশনে গেলে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়, এমনকি ট্রেনে উঠলে জোর করে নামিয়ে দেওয়াও হয়েছে। এরফলে অনেকেই কলকাতায় আসতে পারেননি। তবে তাঁরা সেই স্টেশনে বসেই বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
শিয়ালদহ স্টেশনে আশা কর্মীদের একটি দল এসে পৌঁছালে জিআরপি (GRP) ও পুলিশ বাইরে বেরোতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। ফলে সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন তাঁরা। সেক্টর ফাইভ এলাকায় পৌঁছে যান আশা কর্মীদের একাংশ। কিন্তু স্বাস্থ্যভবনের অদূরেই ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের টেনে হিঁচড়ে তোলা হয় বাসে।
এদিকে অভিযান ঘিরে অশান্তির আশঙ্কায় নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। ৬ ফুট লম্বা ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশান পুলিশ বাহিনী।
গত সপ্তাহেই বেতনবৃদ্ধি-সহ মোট আট দফা দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করেন আশা কর্মীরা (Asha Workers Swasthya Bhawan Abhijan)। দুপুরের ব্যস্ত সময় কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। একাধিক দায়িত্ব কাঁধে অথচ মাসিক আয় অত্যন্ত কম, এই অভিযোগই মূলত আন্দোলনের কেন্দ্রে। আশা কর্মীদের দাবি, বর্তমানে তাঁদের ইনসেনটিভ মিলিয়ে মাসে সর্বোচ্চ ৫,২৫০ টাকার বেশি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ কাজের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।
সেই কারণেই ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিক প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা (Health Insurance), মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) এবং মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ (Death Compensation) চালুর দাবিও রয়েছে আন্দোলনকারীদের।