বসন্তে মধুর স্মৃতি উসকে শ্বশুরবাড়ির গ্রামে পৌঁছলেন রাষ্ট্রপতি
ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের (Mayurbhanj) রাইরংপুর সফরের দ্বিতীয় দিনটা নিজের শিকড়ে কাটালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Droupadi Murmu)। নিরাপত্তা আঁটসাট থাকা সত্ত্বেও টুক করে পৌঁছে গেলেন নিজের শ্বশুরবাড়ির গ্রামে, ঝাড়পুরে (Jharpur)। দিনভর ঘুরে দেখলেন স্মৃতি বিজরিত জায়গা জহিরা–গোসানীর পীঠ, কথা বললেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে, নিলেন ভগবানের আশীর্বাদ।
সকালেই তিনি প্রথম যান কুসুমি ব্লকের পাহাড়পুরে (Pahadpur) অবস্থিত প্রয়াত স্বামী নৈনত শ্যামচরণ মুর্মুর (Nainat Shyamcharan Murmu) স্মৃতিতে তৈরি এসএলএস মেমোরিয়াল আবাসিক বিদ্যালয়ে (SLS Memorial Residential School)। ট্রাইবাল নৃত্য–গানে তাঁকে বরণ করে নেন স্থানীয়রা। ছাত্র–ছাত্রী ও গ্রামবাসীদের সঙ্গে সেখানে কিছুক্ষণ আলাপচারিতা করেন।
সেখান থেকে হেঁটে পৌঁছে যান মুর্মু চাকের কাছে তাঁর স্বামীর মূর্তির সামনে। প্রদীপ জ্বেলে, ধূপ দিয়ে, ফুল অর্পণ করে প্রণাম জানান। এরপর যান গ্রামবাসীদের আদিবাসী দেবতা গোসানী পীঠে (Gosani Pitha)। সাঁওতালি রীতিতে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান গ্রামবাসীরা। শিশুদের চকলেটও বিলিয়ে দেন তিনি।
তারপর বিশেষ শোভাযাত্রা করে পৌঁছা সাঁওতালি উপাসনালয় জহিরা পীঠে (Jahira Pitha)। পুরোহিত নাইকে বাবার উপস্থিতিতে আশীর্বাদ নেন মুন্ডিয়া মারি জহিরা আয়ো (Jahira Mayo)-র কাছ থেকে। সেখানে গ্রামের মহিলাদের সঙ্গে বসে কথা বলেন রাষ্ট্রপতি—খোঁজ নেন তাঁদের সুখ–দুঃখের।
এরপর পাহাড়পুরের স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে (Skill Development Centre) গিয়ে প্রশিক্ষণরত যুবকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর আবার ফিরে যান এসএলএস স্কুলে—শিক্ষক, ছাত্রদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সেরে রওনা দেন রাইরংপুরের শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের (Jagannath Temple) উদ্দেশে।
মন্দিরে বিশেষ বন্দোবস্তে পুজো সারেন তিনি। সেবকদের হাতে নিজে খাবার পরিবেশন করেন, আশীর্বাদ নেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গেও আলাপচারিতা করেন বেশ কিছুক্ষণ। প্রসাদ গ্রহণের পর মন্দির থেকে বেরিয়ে ফিরে যান বাসভবনে। সেখান থেকে তাঁর যশিপুর হয়ে সিমিলিপাল অভয়ারণ্যে (Similipal Sanctuary) রাতে থাকার কথা।