বাংলার জন্য প্রথম বুলেট ট্রেনের ঘোষণা রেলমন্ত্রীর
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) দেশের রেল পরিকাঠামোয় বড়সড় বিনিয়োগের রূপরেখা তুলে ধরেছে কেন্দ্র। রবিবার বাজেট ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) ঘোষণা করেন, দেশে সাতটি নতুন হাই-স্পিড রেল করিডর গড়ে তোলা হবে। সেই তালিকায় শিলিগুড়ি–বারাণসী রুটকে (Siliguri-Varanasi Route) বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই করিডর চালু হলে উত্তর ও পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত খুলবে। পাশাপাশি শিলিগুড়িকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাজেট ঘোষণার পর সোমবার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaisnaw)। তিনি জানান, বাংলায় প্রথম বুলেট ট্রেন (First Bullet Train For West Bengal) চলবে শিলিগুড়ি–বারাণসী রুটেই। এই হাই-স্পিড ট্রেন বারাণসী থেকে পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পৌঁছবে। রেলমন্ত্রীর কথায়, ভবিষ্যতে এই করিডর উত্তর-পূর্ব ভারতের গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় ২ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।
চলতি বাজেটে রেল মন্ত্রকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় ১০.৮ শতাংশ বেশি। রেলের মোট ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা - যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই বিপুল বরাদ্দের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। রেলমন্ত্রী জানান, গত বছরের তুলনায় বাংলার বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।
বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, একটি নতুন ফ্রেট করিডরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের ডানকুনি ও গুজরাটের সুরাটকে যুক্ত করা হবে। সেই প্রসঙ্গে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই নতুন পণ্য পরিবহণ করিডর ডানকুনির সঙ্গে গুজরাটের পাশাপাশি ছত্তিসগড়, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রকে সংযুক্ত করবে। সরকারের মতে, এই করিডর শিল্প ও বাণিজ্যের গতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
হাই-স্পিড রেল করিডরগুলিকে অর্থমন্ত্রী ‘গ্রোথ কানেক্টর’ বা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সেতু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শিলিগুড়ি–বারাণসী ছাড়াও প্রস্তাবিত করিডরের তালিকায় রয়েছে মুম্বই–পুনে, পুনে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি–বারাণসী।
এদিকে কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণ নিয়েও ফের রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রেলমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ৪০ বছরে কলকাতা মেট্রোর বিস্তার হয়েছিল ২৭ কিলোমিটার, অথচ ২০১৪ সালের পর গত ১১ বছরে তা বেড়েছে ৪৫ কিলোমিটার। চিংড়িঘাটায় কাজের অনুমতি না মেলায় উন্নয়ন আরও দ্রুত হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।