ভোট অন অ্যাকাউন্ট শেষে দাবি অমিত মিত্রর
ভোটের বছরে বাজেট (West Bengal State Budget 2026) পেশের পর স্পষ্ট বার্তা দিল রাজ্য সরকার, উন্নয়নের নিরিখে অতীতকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে বাংলা।
বৃহস্পতিবার ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পাশে বসে রাজ্যের আর্থিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র (Amit Mitra)।এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, "আমরা এফআরবিএম এর নিয়ম মেনে চলেছি। যে আর্থিক শৃঙ্খলা কেন্দ্রও মানে না। বামেদের রেখে যাওয়া দেনার আড়াই লক্ষ কোটি আসল এবং সুদ শোধ করেছি।"
পাশ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, কেন্দ্র আমাদের বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা দিলে রাজ্য আরও এগিয়ে যাবে। মনে রাখবেন, 'আমরা কিন্তু আর্থিক শৃঙ্খলা মেনে চলছি, কেন্দ্র মানে না!'
অমিত মিত্রের দাবি, ২০১০-১১ অর্থবর্ষের তুলনায় রাজ্যের মোট বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে পাঁচ গুণ। ২০১০/১১ সালে (বাম জমানায়) রাজ্য বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৮৪৮০৩ কোটি টাকা। ২০২৬/২৭ বাজেটে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৪০৬০৮৪.১৭ কোটি টাকা। একইভাবে রাজ্যের নিজস্ব করে বাবদ ২০১০/১১ সালে আয় ছিল ২১,১২৯ কোটি টাকা। ২০২৬/২৭ আর্থিক বছরের জন্য এটা আনুমানিক ধরা হয়েছে ১,১৮,৬৬৮.৭৮ কোটি অর্থাৎ বৃদ্ধি ৫.৬২ গুণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের নিজস্ব কর আদায়ের অঙ্ক ছ’ গুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘অতীতের বাম আমলের সঙ্গে তুলনা করলে পরিকাঠামো উন্নয়নে রাজ্য এগিয়েছে সাড়ে ১৮ গুণ।’’
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন ক্ষেত্রেও রাজ্যের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য বলে দাবি করেন তিনি। অমিত মিত্র জানান, এই দুই ক্ষেত্রে উন্নয়নের হার আগের তুলনায় ১৩ গুণ বেড়েছে। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রাজ্য নজির গড়েছে বলে দাবি তাঁর—এই খাতে উন্নয়ন হয়েছে প্রায় ১৮ গুণ।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও জানান, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও আর্থিক চাপের মধ্যেও রাজ্য উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছে।